মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রাম কবরস্থান থেকে তোলা হয়েছে।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ সাদাতের তত্ত্বাবধানে অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের মরদেহ কবর থেকে তোলা হয়।
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর পুলিশের খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রবির কুমার বিশ্বাস, ওসি তদন্ত ও এই মৃত্যুও ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা শাহরিয়ার হাসান, কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, ড. সেলিম হোসেনের বাবা মো. শুকুর আলিসহ এলাকাবাসী।
কবর থেকে ড. সেলিমের মরদেহ তোলার পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে পুনরায় তাকে দাফন করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ নভেম্বর দুপুরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যু হয়। পরে গত ১ ডিসেম্বর ময়না তদন্ত ছাড়ায় তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রামে দাফন করা হয়। এই মৃত্যুও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান কুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়া কুয়েটের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার প্রকৌশলী আনিচুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে অধ্যাপক সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে অস্বাভাবিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাতে মৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা মহানগর পুলিশের খানজাহান আলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহরিয়ার হাসান মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে কবর থেকে মরদেহ তুলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুষ্টিয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বলা হয়।
এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি জানিয়েছে সেলিমের স্বজন এবং এলাকাবাসী।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সস্ত্রীক ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ। বিমানবন্দরে তাদের অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
এ সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি লাল গালিচা সংবর্ধনা এবং গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল সোয়া ১১টার দিকে ভারতীয় এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করে।
পরে তা ভিভিআইপি টার্মিনাল টার্মেকে পোঁছায়। ১০ মিনিট পরে স্ত্রী সবিতা কোভিন্দ ও মেয়েকে নিয়ে বিমান থেকে নেমে আসেন তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সস্ত্রীক তাকে স্বাগত জানান। দু’দেশের রাষ্ট্রপতি গিয়ে দাঁড়ান অভ্যর্থনা মঞ্চে। বিউগলে বেজে ওঠে ভারতের দুদেশের জাতীয় সংগীত। এরপর ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকষ দল। পরে গার্ড পরিদর্শন করেন রাম নাথ কোভিন্দ।
পরে মোটরশোভা যাত্রা সহকারে দুই দেশের রাষ্ট্রপতি গাড়ি বহরে বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করেন। বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ের হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারে করে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের রাষ্ট্রপতিকে।
স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাম নাথ কোভিন্দ।
সফর সূচি: দুপুরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করবেন। বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বঙ্গভবনে যাবেন তিনি। সেখানে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ট্যাংক ও যুদ্ধবিমান জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জন্য উপহার দেবেন।
আগামীকাল ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ১৭ ডিসেম্বর রমনা কালীমন্দিরের সংস্কারকৃত অংশ উদ্বোধন করে দুপুরে দিল্লি ফিরবেন রামনাথ কোবিন্দ।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউ ওয়ার্ডে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর সম্পর্ক নেই বলে দাবি করছেন হাসপাতাল কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত ওই রোগী মুমূর্ষু অবস্থায়ই ছিলেন। মারা যাওয়া রমনী মোহন দাসের বয়স ৬৫ বছর। তার বাড়ি গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে। তিনি সিসিইউতে ছিলেন। করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) জটিল রোগীদেরই রাখা হয়, যাদের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন।
হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক সাংবাদিকদের বলেন, “রাত সাড়ে ৯টার বৈদ্যুতিক বোর্ড থেকে আগুন ধরে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনেও আগুন ধরে যায়। রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গেই রোগীদের পাশের পোস্ট সিসিইউতে সরিয়ে নেওয়া হয়।” ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।
বরিশাল ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, “৯৯৯ থেকে কল করে মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানানো হয়েছিল। পরপরই আগুন নিভে যাওয়ার খবর জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই মেডিকেলে ফায়ার সার্ভিসের কোনো দল পাঠানো হয়নি।”
হাসপাতালের পরিচালক এমএইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই হাসপাতালের কর্মীরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
রোগী মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “ওই রোগী আগে থেকেই মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত। অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে ওই রোগীর মৃত্যুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
শারীরিক অসুস্থতার কারণে ও নিয়মিত কিছু চেকআপের জন্য রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রি। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হাসপাতালে গিয়ে অহেতুক ভীড় না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের হাসপাতালে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত বছরের ৩১ জানুয়ারিতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের।
ওইদিন ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক ছিল। বৈঠকে যোগ দিতে সকাল ১০টার দিকে সেখানে পৌঁছান ওবায়দুল কাদের। সে সময় শ্বাসকষ্ট অনুভব হওয়ায় ১০ মিনিট পর কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। পরে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যান তিনি। এর আগে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ শ্বাসকষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।
সেখানে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা করার পর তার করোনারি ধমনিতে তিনটি ব্লক পান চিকিৎসকরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।
এরপর ২০ মার্চ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মন্ত্রীর বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। সেখানে দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছরের ৫ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ট্রাক ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে শফিউল্লাহ জুয়েল (৪৪) নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তিনি ঢাকার তুরাগ থানায় পরিদর্শক (তদন্ত) পদে কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উপজেলার পুরিন্দা বাজার এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জুয়েল আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুলের ছেলে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।
আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক হুমায়ন কবির জানান, রাতে ঢাকা-মেট্রো-গ- ১৪-৫২২৮ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারে চড়ে জুয়েল বাড়ি থেকে ঢাকায় যাচ্ছিলেন। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পুরিন্দা বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর অবস্থায় শফিউল্লাহ জুয়েলকে স্থানীয় ইউএস-বাংলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি সাজ্জাদ করিম খান বলেন, রাতে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করি। পরে সকালে ময়নাতদন্তের জন্য সদর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
ইভ্যালি প্রতারণার মামলায় সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আতোয়ার রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ আদেশে অভিনেত্রী মিথিলা ও শবনম ফারিয়াকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। মিথিলার পক্ষে হাইকোর্টে শুনানি করেন আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ; ফারিয়ার পক্ষে ছিলেন জেসমিন সুলতানা।
এদিকে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে ইতোমধ্যে গ্রাহকের করা প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী ইসমাইল হোসেন সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা দেন।
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের সময় সুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদী বাহার উদ্দিন বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করে সুজন হাসপাতালে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে মেয়ের মরদেহ পাই। সুজনের যাবজ্জীবন দণ্ডে আমি সন্তুষ্ট।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পেয়ারাপুর গ্রামের মমিন উল্যা পাটোয়ারীর ছেলে সুজনের সঙ্গে জ্যোৎস্না বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সৌরভ ও সুরভী নামে দুটি সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকে সুজনসহ তার পরিবারের লোকজন জ্যোৎস্না বেগমের ওপর শারিরীক ও মানসিক অত্যাচার চালায়। শিশুদের কথা চিন্তা করে একাধিকবার সালিসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হয়।
এর মধ্যে সুজন একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল পরকীয়ার ঘটনা নিয়ে সুজনের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০ এপ্রিল স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন জ্যোৎস্নাকে বেদম মারধর করে।
খবর পেয়ে তার বাবা বাহার উদ্দিন ওই বাড়িতে গিয়ে মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন দেখে। ওই দিন ঘটনার মীমাংসা করে চলে এলেও পর দিন সকালে বাহারের কাছে খবর যায় তার মেয়েকে অচেতন অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাহারসহ পরিবারের লোকজন হাসপাতালের বারান্দায় মেয়ের মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় সুজন ও তার পরিবারের কেউই ছিল না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় মৃত অবস্থায় জ্যোৎস্নাকে নিয়ে আসা হয়েছে। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। ঘটনাটি ভিন্নদিকে প্রভাবিত করতে স্থানীয়ভাবে জ্যোৎস্নার গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে রটানো হয়।
মেয়েকে হত্যার ঘটনায় বাবা বাহার উদ্দিন বাদী হয়ে ২২ এপ্রিল সুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। বাহার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ এপ্রিল এলাকা থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে হত্যার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ১৬৪ ধারায় আদালতে সুজন জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে একই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর সুজনের বিরুদ্ধে সদর থানা পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
গ্রেপ্তারের পর থেকে সুজন কারাগারেই ছিলেন। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সুজনকে যাবজ্জীবন কারা দণ্ডিত করে।
জেলার গৌরনদী উপজেলার অসহায় অতিদরিদ্র শ্রবন বাকপ্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার টরকী হযরত মল্লিক দূত কুমার পীর সাহেবের মাজার প্রাঙ্গনে বধির ও প্রতিবন্ধী সংঘের আয়োজনে অর্ধশতাধিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে কম্বল, শাড়ী, লুঙ্গি ও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল-আমিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার খোকন আহম্মেদ হীরা, সংঘের উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি বধির গাজী খায়রুল ইসলাম, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখার সদস্য সচিব তারেক মাহমুদ আলী প্রমুখ।