মাদক মামলায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনের অভিযোগ গঠন শুনানি পিছিয়ে আগামী ১২ জানুয়ারি নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার তৃতীয় যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আমিরুল ইসলামের আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন। আসামি পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য সময়ের আবেদন করেন। এসময় আদালত আবেদন মঞ্জুর করে পরবর্তী অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন। গত ১০ সেপ্টেম্বর এ মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর বিচারক ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেন। গত ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে নথি পেশ করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ ইস্যুতে রাজনীতি যখন উত্তপ্ত, তখন ফতোয়া দিলো দেশের আলেম সমাজ। আজ বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, সম্প্রতি সরকারি উদ্যোগে ভাস্কর্য নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ভাস্কর্যের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন কথা হচ্ছে। ফলে জাতীয়ভাবে এ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হয়েছে। ভাস্কর্য ও মূর্তির বিধান নিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভ্রান্তি।
কোরআন এবং হাদিসের আলোকে মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ হারাম দাবি করে তারা বলেন, এসব মূর্তি-ভাস্কর্য ভাঙার দায়িত্ব সরকারের। ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে ফতোয়াটি উপস্থাপন করেন ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান মুফতি এনামুল হক কাসেমী। লিখিত ফতোয়ায় তিনি বলেন, ‘মানুষ বা অন্য যেকোনো প্রাণীর ভাস্কর্য আর মূর্তির মধ্যে শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো পার্থক্য নেই। পূজার উদ্দেশ্যে না হলেও তা সন্দেহাতীতভাবে নাজায়েজ ও স্পষ্ট হারাম এবং কঠোর আজাবযোগ্য গুনাহ। ইসলামের সুস্পষ্ট বিধানকে পাশ কাটিয়ে প্রাণীর ভাস্কর্য আর মূর্তির মধ্যে পার্থক্য করে প্রাণীর ভাস্কর্যকে বৈধতা বলে সত্য গোপন করা এবং কোরআন ও সুন্নাহর বিধান অমান্য করার নামান্তর।’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে তথ্য মন্ত্রণালয়। পুরস্কার পেলেন তারিক আনাম খান-সুনেরাহ বিনতে কামাল-মমতাজ বেগম-জাহিদ হাসান-তানভীর ও তারেক। ২৬ বিভাগে ৩৩ জন শিল্পী ও কলাকুশলী পেয়েছেন দেশীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার। এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ সিনেমার খেতাব যৌথভাবে পাচ্ছে ন ডরাই ও ফাগুন হাওয়ায়। ন ডরাই সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার পাচ্ছেন তানিম রহমান অংশু। আবার বসন্ত সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন তারিক আনাম খান। আর ন ডরাই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হয়েছেন সুনেরাহ বিনতে কামাল।
পার্শ্ব চরিত্রে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও অভিনেত্রী যথাক্রমে ফজলুর রহমান বাবু ও নারগিস আক্তার। সাপলুডু সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতার পুরস্কার পাচ্ছেন জাহিদ হাসান। কালো মেঘের ভেলা এবং যদি একদিন সিনেমায় অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ শিশুশিল্পীর পুরস্কার যৌথভাবে পেয়েছে নাইমুর রহমান আপন ও আফরীন আক্তার। মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ইমন পাচ্ছেন শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকের পুরস্কার। মায়া দ্য লস্ট মাদার সিনেমার সংগীত পরিচালনা করেছেন তিনি। শ্রেষ্ঠ গায়ক হয়েছেন মৃনাল কান্তি দাস। শাটল ট্রেন সিনেমার ‘তুমি চাইয়া দেখো’ শিরোনামের গান গেয়েছেন তিনি। শ্রেষ্ঠ গায়িকার পুরস্কার যৌথভাবে পাচ্ছেন মমতাজ ও ঐশী। দুজনই মায়া দ্য লস্ট মাদার সিনেমায় গেয়েছেন যথাক্রমে ‘বাড়ির ঐ পূর্বধারে’ ও ‘মায়া, মায়া রে’ গান।
শ্রেষ্ঠ নৃত্য পরিচালকের পুরস্কার পাচ্ছেন হাবিবুর রহমান। মনের মতো মানুষ পাইলাম না সিনেমায় নৃত্য পরিচালনার জন্য এ পুরস্কার পাচ্ছেন তিনি। শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে যৌথভাবে পুরস্কার পাচ্ছেন নির্মলেন্দু গুণ ও কবি কামাল চৌধুরী। কালো মেঘের ভেলা সিনেমার ‘ইস্টিশনে জন্ম আমার’ গানের জন্য নির্মলেন্দু গুণ এবং মায়া দ্য লস্ট মাদার সিনেমায় ‘চল হে বন্ধু চল’ গানের জন্য কবি কামাল চৌধুরী এ পুরস্কার পাচ্ছেন। মায়া দ্য লস্ট মাদার সিনেমার ‘বাড়ির ঐ পূর্বধারে’ গানের জন্য আব্দুল কাদির ও ‘আমার মায়ের আঁচল’ গানের জন্য সৈয়দ মো. তানভীর তারেক যৌথভাবে পাচ্ছেন শ্রেষ্ঠ সুরকারের পুরস্কার।
শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার মাসুদ রানা, শ্রেষ্ঠ চিত্রনাট্যকার মাহবুব উর রহমান, শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা জাকির হোসেন রাজু। শ্রেষ্ঠ সম্পাদক জুনায়েদ হালিম, শ্রেষ্ঠ শিল্প নির্দেশক যৌথভাবে মো. রহমত উল্লাহ বাসু ও ফরিদ আহমেদ, শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক সুমন কুমার সরকার, শ্রেষ্ঠ শব্দগ্রাহক রিপন নাথ, শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা খোন্দকার সাজিয়া আফরিন এবং শ্রেষ্ঠ মেকআপ ম্যানের পুরস্কার পেয়েছেন মো. রাজু। এ ছাড়া শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে নারী জীবন। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট।
যা ছিলো অন্ধকারে প্রামাণ্যচিত্রের জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন পেয়েছে শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার। এবারের আয়োজনে সর্বোচ্চ ৮টি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে মায়া দ্য লস্ট মাদার সিনেমাটি। ৬টি বিভাগে পুরস্কার পেয়ে দ্বিতীয়স্থানে আছে ন ডরাই। এ ছাড়া ফাগুন হাওয়ায় সিনেমাটি পুরস্কার পেয়েছে ৩টি বিভাগে। সূত্রঃ ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন।