দিনাজপুরসহ দেশের উত্তর জনপদে আবারও শুরু হয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। শৈত্যপ্রবাহের কারণে এক দিনের ব্যবধানে গতকাল এই অঞ্চলে তাপমাত্রা অনেকটা কমে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসসূত্রে জানাযায়, বুধবার সারা দিন দিনাজপুরসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৫ ডিগ্রির ওপরে থাকলেও দিবাগত রাত থেকে এই অঞ্চলে বইতে শুরু করেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এই শৈত্যপ্রবাহের কারণে এক দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা বেশ কমে গেছে। বৃহস্পতিবার দিনাজপুরে সারা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তিনি বলেন, ‘হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত এই অঞ্চলে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হিমালয়ের হিমশীতল বায়ু প্রবাহিত হওয়ায় শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এই শৈত্যপ্রবাহের কারণে আগামী ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এই অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও ২ থেকে ৩ ডিগ্রি হ্রাস পেতে পারে। তবে এটিই এই মৌসুমের সর্বশেষ শৈত্যপ্রবাহ বলে আভাস দেন তিনি। শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি এই অঞ্চলে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পরিলক্ষিত হচ্ছে ঘন কুয়াশা। ঘন কুয়াশার কারণে সড়ক ও মহাসড়কে যান চলাচল করছে ধীরগতিতে। হঠাত্ করে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।’
এদিকে কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনের বেশিরভাগ সময় সূর্যের দেখা মিলছে না। উত্তরের হিমেল হাওয়া ঠান্ডার মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিকাল হলেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে প্রকৃতি, যা অব্যাহত থাকছে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত। শীতবস্ত্রের অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধরা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে কৃষি শ্রমিকরা। এদিকে ঠান্ডার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ইনডোরের পাশাপাশি আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে অন্তত ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের এলপিজি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম বেশি হতে হবে। এমন যুক্তিতে সিলিন্ডারের দাম ৯০২ টাকা করার সুপারিশ করেছে এনার্জি রেগুলারিটি কমিশন।
অথচ সরকারি এলপি গ্যাস লিমিটেড বলছে, ১২ কেজির সিলিন্ডারে ৭০০ টাকা হলেই তাদের চাহিদা মিটবে। অন্যদিকে বেসরকারি উৎপাদকরা সিলিন্ডারের দাম ১২৫৯ টাকা চান। আর চূড়ান্ত হবার আগেই বাজারে বেড়ে গেছে সিলিন্ডারের দাম। সিলিন্ডার গ্যাসের দাম আগেই বেড়েছে। প্রতি সিলিন্ডারে কোম্পানি ভেদে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার গ্যাস জানুয়ারিতে ৯০০ থেকে প্রায় ১০০০ টাকা হয়েছে।
দাম বাড়াতে চায় সরকারি উৎপাদক সংস্থা এলপি গ্যাস লিমিটেডও। তাদের দাবি ১৬ শতাংশ বাড়ালেই রাজস্ব চাহিদা পূরণ হবে কোম্পানিটির। বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনা অনুযায়ি, সরকারি গ্যাসের দাম হওয়া উচিত ৯০২ টাকা আর বেসরকারি ৮৬৬ টাকা। কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব কামুরুজ্জামান বলেন, বাজারে বিভিন্ন সাইজের সিলিন্ডার প্রচলিত আছে। কমিশন কর্তৃক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেজি অনুযায়ী পরবর্তী যে সিলিন্ডারের সাইজগুলো আছে সেগুলো সবগুলোরই মূল্য নির্ধারণ করার প্রয়োজন হবে।
জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বলেন, এলপিজি আনতে অনেক খরচ হয়, জাহাজ ভাড়া দিতে হয়। এটা আনতে ব্যয় কিভাবে কমবে তারা কিন্তু সেকথা বলেনি। তারা যে যেভাবে ব্যবসা করছে কত খরচ হয় সেই কথা বলছে। কিন্তু বিকল্প আরো অনেক উপায় আছে। যে কৌশলগুলো অবলম্বন করলে এর ব্যয় কমিয়ে আনা সম্ভব। তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ কমানোর চেষ্টা না করে, দাম বাড়ানোর সহজ কৌশল নিচ্ছে কোম্পানিগুলো। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভোক্তাস্বার্থ।