এক কিংবা দু’ঘণ্টা নয়। একটানা ১৪৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট পানির নিচে কাটিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ২৯ বছর বয়সী মিসরের এক যুবক সাদ্দাম আল-কিলানি। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি।
গত বছরের ৫ নভেম্বর সব প্রস্তুতি সেরে লোহিত সাগরে নামেন সাদ্দাম। পানির নিচে চলে যান তিনি। এরপর কেটে যায় টানা ১৪৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। অর্থাৎ ৬ দিনেরও বেশি সময়। ১৫০ ঘণ্টা পানির নিচে থাকার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও স্বাস্থ্যের কথা ভেবে তুলে নেওয়া হয় সাদ্দামকে।
ততক্ষণে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন সাদ্দাম। ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের কেম কারাবের ১৪২ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট পানির নিচে থাকার রেকর্ডটি করেছিলেন। এবার সাদ্দাম তার রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়লেন। এ ছাড়া নিজের ব্যক্তিগতও রেকর্ডও ভাঙেন সাদ্দাম। এর আগে পানির নিচে ১২১ ঘণ্টা থাকার রেকর্ড গড়েছিলেন মিসরীয় এই যুবক।
সাদ্দাম পেশায় একজন স্কুবা ডাইভার। তার এই কীর্তিতে হতবাক নেটদুনিয়াও। অনেকেই প্রশংসা করেছেন তার কাজের। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে তার এই কীর্তির প্রামাণ্য ভিডিও, ছবি এবং নথি জমা দেওয়া হয়েছে। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মান্যতা পেলেই শিগগির রেকর্ড বুকে নাম উঠবে সাদ্দামের।
সাদ্দামকে এই রেকর্ড গড়তে সাহায্য করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল। এ ছাড়াও ছিলেন অন্যান্য স্কুবা ডাইভারও। এদিকে তার পানির নিচে থাকা অবস্থায় একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকেই প্রশংসা করেছেন সাদ্দামের এই কীর্তির।
কদিন আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হওয়া এনজিকে প্রো কার চ্যাম্পিয়নশিপে বাজিমাত করেন বাংলাদেশের ফর্মুলা রেসার তৌহিদ আনোয়ার। ফর্মুলা রেসের আন্তর্জাতিক জগতে যিনি অভিক আনোয়ার নামেই বেশি পরিচিত।
এবার ভারতের কার রেসিং চ্যাম্পিয়নশিপে ভক্সওয়াগন পোলো ক্যাটাগরিতে প্রথম রাউন্ডে ষষ্ঠ হওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডে দ্বিতীয় হয়েছেন তিনি।
গত ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর দেশটির চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ মোটর রেস ট্র্যাকে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় রাউন্ড। মোট ২০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তৌহিদ আনোয়ার ছাড়াও বাংলাদেশের আরেক রেসার আয়মান সাদাত সপ্তম হয়েছেন।
জানা গেছে, আগামী ১২ জানুয়ারি চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। দুই রাউন্ড শেষে তৃতীয় স্থানে আছেন অভিক আনোয়ার।
আরব আমিরাত থেকে ফেরার পর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে মানসিক দৃঢ়তায় সেই ধকল সামলে উঠেই ভারতের মাটিতে এমন সাফল্য পেলেন অভিক। রোববার (১২ ডিসেম্বর) নিজের ফেসবুকে এক বার্তায় তিনি বলেন, আমি কখনোই অজুহাত বানানোর চেষ্টা করি না! হ্যাঁ, এটা সত্য আমি ডেঙ্গু থেকে রিকভার করেছি কিন্তু যখন বাংলাদেশের জন্য রেসিং করি আমি আমার শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করি। আলহামদুলিল্লাহ আমি বাংলাদেশের জন্য আরেকটা পোডিয়াম এনেছি, আপনাদের দোয়া সব সময় আমার কাজে লাগে! ধন্যবাদ আপনাদের সবাইকে আমাকে সাপোর্ট করার জন্য। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন জয় বাংলা।‘
এমন সাফল্যের পর গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ মোটর ট্র্যাকে নামার আগেও জ্বর ছিল। চারটা ট্যাবলেট খেয়ে নেমেছিলাম। জ্বর নিয়ে রেস করেও শেষ পর্যন্ত সাফল্য পেয়েছি। তাই খুবই ভালো লাগছে।
এর আগে বাংলাদেশের প্রথম রেসার হিসেবে অভিক আনোয়ার আন্তর্জাতিক পদক মঞ্চে ওঠেন ২০১৯ সালে। সেবার মালয়েশিয়ার ফর্মুলা ওয়ান ট্র্যাক সেপাং আন্তর্জাতিক সার্কিটে ব্রোঞ্জ জেতেন তিনি। মালয়েশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ সিরিজের চতুর্থ রাউন্ডের দ্বিতীয় রেসে ৪৮ দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে তৃতীয় হয়েছিলেন অভিক।
রেসিং ট্র্যাকে বাংলাদেশ প্রথম সাফল্যের দেখা পায় অভিক আনোয়ারের হাত ধরেই। স্টিয়ারিং হাতে রেসিং ট্র্যাকে ঝড় তুলে বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা রেসারদের পেছনে ফেলে এগিয়ে চলছে অভিক। কিন্তু এ পর্যন্ত আসাটা সহজ ছিল না তার জন্য।
শখের বসেই শৈশবেই রেসে হাতেখড়ি অভিকের। ছুটতে চাইতেন শুমাখার, ভেটেল, হ্যামিল্টনের গতিতে। লাল সবুজের পতাকাকে বিশ্ব দরবারে ওড়ানোই যার স্বপ্ন। পরে গড়ে চলেছেন একের পর এক ইতিহাস।