আসন্ন ৬১টি পৌরসভা নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে চতুর্থ দিনের মতো ফরম বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেয়ার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে আসতে থাকেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। আজ মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন ৪০ জন। এখন পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নপত্র কিনেছেন ২৪০ জন। এর মধ্যে কিছু কিছু আসনে ৪ থেকে ১৩ জন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র কিনেছেন। যার কারণে দলীয় নিয়মও কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
তৃণমূল থেকে নাম না পাঠালে জেলা অথবা বিভাগীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতার সম্মতি নিয়েও ফরম কিনতে পারছেন নির্বাচনে আগ্রহীরা। ৮ ডিসেম্বর থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি করছে আওয়ামী লীগ।
মহামারী করোনা ভাইরাসে গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু বরণ করেছেন ১৯ জন। এ নিয়ে দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ছয় হাজার ৯৮৬ জনে। এছাড়া নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরো এক হাজার ৮৮৪ জন। যারা গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু বরণ করেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ এবং নারী ০৬ জন। তারা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরো এক হাজার ৮৮৪ জন। এতে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল চার লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৯ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ৮৬৬ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ চার লাখ ১৪ হাজার ৩১৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪০টি ল্যাবরেটরিতে ১৬ হাজার ৬৪৪টি নমুনা সংগ্রহ এবং ১৬ হাজার ৩২৩টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এ নিয়ে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ লাখ ৪৪ হাজার ২৫২ জনে।
২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ। মোট রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৯৩ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। করোনায় মোট মৃত ৬ হাজার ৯৮৬ জনের মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার ৩৩৯ (৭৬ দশমিক ৪২ শতাংশ) এবং নারী এক হাজার ৬৪৭জন (২৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ)।
পদ্মা সেতুতে জিডিপি বাড়বে ১.২৩ শতাংশ, ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমাবে পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে পদ্মা সেতু। বছরে জিডিপি বাড়বে প্রায় দেড় শতাংশ হারে। এক শতাংশের মতো করে কমবে দরিদ্র মানুষ। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ জেলাকে সরাসরি যুক্ত করবে সেতুটি। গতি ফিরবে মংলা বন্দরের। আর এই সংযোগ বদলে দেবে পুরো দেশের শিল্পায়নের চিত্র।
কুয়াশার সাদায় ঢেকে আছে পুরো পদ্মা নদী। ফেরি চলাচল বন্ধ। বন্ধ এপার-ওপার যাওয়া আসার উপায়ও। ফেরিঘাটে এই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে, আর মাত্র এক বছর। তখন পদ্মার উপর দিয়ে তুমুল গতিতে চলবে গাড়ি। গতি বাড়বে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ জেলার অর্থনীতিতেও। খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতুর সঙ্গে মংলা বন্দর এবং খান জাহান আলী বিমানবন্দরের একটা যোগাযোগ আছে। এতে করে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী হবে।
অর্থায়ন থেকে সরে আসা বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা বলছে, জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ কমপক্ষে তিনকোটি মানুষ সরাসরি এই সেতুর মাধ্যমে উপকৃত হবে। প্রতিবছর দারিদ্র্য কমবে দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে, পদ্মা সেতুতে ভর করে জিডিপিতে বাড়তি ১ দশমিক ২২ শতাংশ যোগ করবে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক জিডিপি বাড়বে সাড়ে ৩ শতাংশ।
উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. আবু ইউসুফ বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি না বৈষম্য কমাতেও পদ্মা সেতু বড় ভূমিকা পালন করবে। আমাদের জেলাভিত্তিক দারিদ্রের ডাটা আছে। সুওতরাং এখানে যেটা বলা হয়েছে যে দশমিক ৮৪ শতাংশ দারিদ্র্য কমবে আমার মনে হয় এর পরিমান আরও বাড়তে পারে। পদ্মা সেতু চালু হলে বন্ধ হবে ৫০ ভাগ ভর্তুকি দেয়া ফেরি সার্ভিস। অর্থাৎ টোলের শতভাগ টাকাই পাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার। বাড়বে সরকারের আয়ও। সূত্রঃ ডিবিসি