ভাস্কর্য তৈরিকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বের হওয়া একটি মিছিল পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম থেকে কয়েকশ মানুষ ভাস্কর্য বিরোধী মিছিলে যোগ দেয়। মিছিলটি পল্টন এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ সেটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠন এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে পল্টন, বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ভাস্কর্যের বিপক্ষে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলছেন, তারা এর বিপক্ষে কথা বলেই যাবেন। “(ভাস্কর্য) হতে দেবো কি দেবো না সেটা তো আসলে আমাদের বিষয় না। আমাদের বিষয় হল আমরা প্রতিবাদ করবো। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আন্দোলন করবো। যেটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সেই জায়গা থেকে আমরা আমাদের ঈমানি দাবিটা জানিয়েই যাব, কথা বলেই যাব। সেটা সরকার রাখবে কি রাখবে না সেটা সরকারের বিষয়।”
বাংলাদেশে এর আগেও ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে উত্তেজনাকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ন্যায় বিচারের প্রতীক গ্রীক দেবী থেমিসের একটি ভাস্কর্য স্থাপনের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের পর চাপের মুখে সেটি স্থানান্তর করা হয়। সরিয়ে ফেলা হয় ঢাকায় বিমানবন্দর, জিপিও’র সামনের ভাস্কর্য।
ইউএনজিসির ৩১তম বিশেষ অধিবেশনে প্রাক রেকর্ডকৃত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ন্যায্যতার ভিত্তিতে ও সাশ্রয়ী মূল্যে সবার জন্য মানসম্মত করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবেলায় মানসম্পন্ন ভ্যাকসিনের সার্বজনীন ও ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি এটি স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। মহামারী পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভ্যাকসিনকে গোটা বিশ্বের জন্য একটি বৈশ্বিক জনপণ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সুযোগ পেলে ভ্যাকসিন তৈরি করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার মধ্যে আর্থিক সহায়তাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, সেগুলোকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে। আমাদের যথাসময়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ও সাশ্রয়ী মূল্যে সবার জন্য মানসম্মত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যখন ভ্যাকসিন পাওয়ার কথা আসে, তখন কাউকে পেছনে রাখা সমীচীন হবে না। এই মহামারি পরাস্ত করতে। কভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে গোটা বিশ্বের জন্য একটি বৈশ্বিক গণপণ্য বিবেচনা করতে হবে। বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি লোক মারা গিয়েছে এবং প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছে। এ মহামারি অনেক মানুষকে আরো দরিদ্র করে তুলেছে। মার্চের প্রথম দিকে বাংলাদেশে ভাইরাস শনাক্তকরণের পর থেকে আড়াই কোটির বেশি লোককে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় মহামারী সামাল দিতে ব্যাপক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘ, আইএফআই, সুশীল সমাজকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ধকল সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।