সচিবালয়ে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, মিয়ানামার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
মন্ত্রী বলেন, মিয়ানামার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনই সরকারের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এজন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। প্রত্যাবাসন কিভাবে করা হবে; সে বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় পুলিশ মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। তবে ক্যাম্পের বাইরে সেনাবাহিনী টহল থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা ছাড়াও সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে সংঘটিত অভ্যন্তরীণ দাঙ্গার কারণে ১৯৭৮ ও ৭৯ সালে, ১৯৯১ ও ৯২ সালে এবং ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ উখিয়া উপজেলার ৩৫ টি কেন্দ্রে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। তিনি জানান, এর অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত দুই দফায় ৪০৬টি পরিবারের প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গাকে সেখানে স্থানান্তর করে সরকার। ভাসানচরে একটি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট এবং একটি থানার কাজ চলছে। ভাসানচরে উৎসুক জনতা যাতে না যায় জেন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী এবং এপিবিএনের দুইটি ইউনিট কাজ করছে। একইসঙ্গে পুলিশ, বিজিবি, আনসার এবং র্যাব কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চারপাশে ১৪২ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করা হচ্ছে। এরমধ্যে ১১১ কিলোমিটার বেড়া তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। তিনি জানান, চলতি বছর জুনের মধ্যেই বেড়া তৈরির কাজ শেষ হবে। কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ওয়াক ওয়ে নির্মাণ ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এতে রোহিঙ্গাদের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। তাদের নিরাপত্তাও দেওয়া যাবে। মন্ত্রী বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণ বড় একটি চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকরা তাদের স্থায়ী ঠিকানায় গিয়ে ইয়াবা নিয়ে আসছে। এসবের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সেখানে খুনাখুনিও হচ্ছে। সেজন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল বাড়ানো হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ দেশি-বিদেশি ১৮০টি এনজিও কাজ করছে।
ভাসানচরেও ইতোমধ্যে ২২টি এনজিও কাজ শুরু করেছে। কিছু নিষিদ্ধ এনজিও এবং অনিবন্ধিত কোনো এনজিও ক্যাম্পগুলোতে কাজ করতে পারবে না মর্মে সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে ১৩৪টি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্র ও ৫৪৯৫টি শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। যাতে রোহিঙ্গারা তাদের নিজেদের মিয়ানমারের ভাষা এবং ইংরেজি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আগমনে ক্যাম্প এলাকায় বনায়ন ধ্বংস হয়ে যায়। এজন্য সেখানে বৃক্ষ ও ঘাস রোপণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিলেটে নতুন ৩০ ধরনের পরিবর্তিত করোনাভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। এর মধ্যে ৬টি ভাইরাস আগে বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি। সিলেট বিভাগে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের গবেষকরা। এর মধ্য দিয়ে নতুন ৩০ ধরনের পরিবর্তিত করোনাভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন তারা, যার ৬টি আগে বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি। গবেষকরা জানিয়েছেন, সিলেটের সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহীত নমুনা থেকে এ গবেষণা চালানো হয়।
শাবিপ্রবি’র জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক জি এম নূরনবী আজাদ জুয়েল জানান, প্রোটিন লেভেলে ৪৭টি মিউটেশন পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৩০টি মিউটেশন বাংলাদেশের যা আগে রিপোর্ট করা হয়নি। এ অঞ্চলে করোনার গতিপ্রকৃতি ও বৈচিত্র্য উদঘাটনের লক্ষ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগ এ মিউট্যান্টগুলো নিয়ে কাজ করছে। এর ফলে ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনায় এই গবেষণা কাজে আসবে বলে মনে করেন, গবেষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল হক বলেন, ‘আমাদের ৩০ জনের দলটি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করছেন তারা আরও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন সেটা হলে সমগ্র সিলেট বিভাগে করোনার গতিপ্রকৃতি নির্ণয় করা আরও সহজ হবে।’ বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসহ সব ধরনের গবেষণা কাজে সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে বলে জানালেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমদ।