শারীরিক অসুস্থতার কারণে ও নিয়মিত কিছু চেকআপের জন্য রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রি। মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদেরের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে হাসপাতালে গিয়ে অহেতুক ভীড় না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দর্শনার্থীদের হাসপাতালে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত বছরের ৩১ জানুয়ারিতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে বিএসএমএমইউ-তে ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের।
ওইদিন ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক ছিল। বৈঠকে যোগ দিতে সকাল ১০টার দিকে সেখানে পৌঁছান ওবায়দুল কাদের। সে সময় শ্বাসকষ্ট অনুভব হওয়ায় ১০ মিনিট পর কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান। পরে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে সরাসরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যান তিনি। এর আগে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ শ্বাসকষ্ট নিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।
সেখানে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা করার পর তার করোনারি ধমনিতে তিনটি ব্লক পান চিকিৎসকরা। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়।
এরপর ২০ মার্চ মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে মন্ত্রীর বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। সেখানে দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ওই বছরের ৫ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কটূক্তি কোন সভ্য সমাজ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
বঙ্গভবনের পাশে টিকাটুলিতে শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে মিথ্যা ও কটূক্তিকারী বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে একাত্মতা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
ওই মানববন্ধনে তিনি আরও বলেন, বিএনপি সব সময় অপরাজনীতি করে, দেশকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে।
মানববন্ধনে অংশ নেন শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও। পরে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
সড়ক-মহাসড়কে ঘন কুয়াশায় অধিক গতিতে গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ, তাই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবহন শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
গাড়ি চালনার ক্ষেত্রে সবাইকে ফগলাইট জ্বালানোসহ গতিসীমার বিধিনিষেধ মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে ওবায়দুল কাদের নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সরকারের চলমান বিভিন্ন পদক্ষেপে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা আশা করেন।
শনিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে নিজ বাসভবনে ব্রিফিংকালে পরিবহন শ্রমিকদের এ আহ্বান জানান আওয়ামী লীগের এ সাধারণ সম্পাদক।
বিএনপি নেতাদের গুম নিয়ে মাঠ গরম করার ব্যর্থ চেষ্টা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন তারা সরকারের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন।
চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনকে গুম এবং হত্যার সাথে কারা জড়িত ছিল? বিএনপি নেতাদের কাছে প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, তখন তারা আওয়ামী লীগের ওপর দোষ চাপিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে প্রমাণ হয় বিএনপি নেতারাই জামাল উদ্দিনকে অপহরণ ও হত্যার সাথে জড়িত ছিল।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দুঃখের সাথে বলেন, জামাল উদ্দিন হত্যার ঘটনা উন্মোচিত হওয়ার পরও বিএনপি মুখে যত কথাই বলুক, নিজেরাই মনন-মগজে গুম, হত্যা,ষড়যন্ত্র ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো বহন করছে।
বিএনপি নেতারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই বলে যে বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে তার বিপরীতে ওবায়দুল কাদের বলেন, দিন-রাত তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন, গণমাধ্যম স্বাধীন ও হস্তক্ষেপ মুক্ত থেকে কাজ করছে। প্রতিদিন কাগজ,সংবাদে, টকশোতে সরকারের সমালোচনা হচ্ছে। এজন্য তো কোনো গণমাধ্যমে কিংবা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও।
বিএনপি নেতাদের বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলা প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা সরকার বিচার বিভাগের ওপর ন্যূনতম কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।
বিএনপির কাছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা মানে বিচারের রায় নিজেদের পক্ষে যেতে হবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা রায় নিজেদের পক্ষে গেলে বলে বিচার বিভাগ স্বাধীন, আর বিপক্ষে গেলে বলে বিচার বিভাগের ওপর সরকার হস্তক্ষেপ করছে।বিএনপির এ দ্বৈত নীতি জনগণের কাছে এখন স্পষ্ট বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এ সাধারণ সম্পাদক।
গাজীপুরের শ্রীপুরে আগামী ৫ জানুয়ারির ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ নৌকার ৮ প্রার্থীকে একমঞ্চে উঠিয়ে হাত জোড় করে ভোট চেয়ে কাঁদলেন এবং নৌকার প্রার্থীদের একমঞ্চে উঠিয়ে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহবান জানান তিনি।
আগামী ৫ জানুয়ারির ইউপি নির্বাচনে শ্রীপুর উপজেলার নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পূর্বে বুধবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন কবির হিমুর সভাপতিত্বে এ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন সবুজ।
আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ ৫০ বছরে পা রেখেছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সংগঠনটির ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে দুর্নীতির দায়ে সাজা পাওয়া ব্যক্তিকে বিদেশ নেয়ার কথা বলা বিএনপির দ্বৈত নীতি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবি নিয়ে দলটির আন্দোলনের সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তারা দুর্নীতি নিয়ে এত কথা বলে আবার দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করানোর জন্য কান্নাকাটিও করে। তাদের এ ধরনের দ্বৈত মানসিকতা কেন?
বিএনপি নেতারা সহানুভুতি চায়, ক্ষমতায় থাকাকালে তারা কতখানি সহানুভুতি দেখিয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় খালেদা জিয়াকে তার সাজা মওকুফ করে বাড়িতে থেকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি আমার যতটুকু ক্ষমতা আছে সেটি ব্যবহার করে তার সাজা স্থগিত করে বাসায় থাকার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। আমরা যতটুকু দিয়েছি তা কি যথেষ্ট না?
পরে যুবলীগের বিভিন্ন কর্মকান্ডের প্রশংসা ও যুব সমাজের জন্য বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি যুবলীগকে ধন্যবাদ জানাই করোনাকালীন সময় তারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, খাদ্য এবং চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন সিলিন্ডারের যোগান দিয়েছে। পরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০ লক্ষ মানুষকে গৃহ নির্মাণ করে দেয়াসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নে যুব সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা, ৭ ডিসেম্বর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশানুযায়ী প্রতিমন্ত্রী ডা: মুরাদ হাসানের পদত্যাগপত্র মন্ত্রিপরিষদে পৌঁছেছে। আমি তার সুস্থতা এবং মঙ্গল কামনা করি।’ আজ দুপুরে সচিবালয়ে তার দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তার এই ঘটনাগুলো আসলে দু:খজনক। মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমাদের কোনো কাজে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়াননি বরং ডা. মুরাদ হাসান আমাকে সবসময় সহযোগিতা করে এসেছেন। সেজন্য তাকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’ সেই সাথে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে তার মধ্যে আমি কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। তার কিছু বক্তব্য ও ঘটনা সরকার এবং দলকে বিব্রত করেছে। সেকারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করার জন্য বলেছেন এবং সে অনুযায়ী তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র তার জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি ইতিমধ্যেই তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিয়ে গেছেন।’ ডা. মুরাদ হাসানের দলীয় সদস্য পদ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্তÍ গ্রহণ করা হবে। তিনি যেহেতু জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, দলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেটি জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগ বলতে পারবে। সংসদ সদস্য পদ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য এবং বিষয়টি জাতীয় সংসদের। এসময় সাংবাদিকরা উল্লেখ করেন যে, ‘ডা. মুরাদ হাসান বলতেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলেই বিভিন্ন মন্তব্য করেন’। বিষয়টি তুলে ধরলে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে কিছু বলেছেন বলে আমার জানা নেই। আমি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও কাজ করেছি। দল বা সরকার বিব্রত হয় এমন কোনো কথা বা কর্মকান্ড প্রধানমন্ত্রী কখনো কারো জন্যই অনুমোদন করেন না।’