রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে ষষ্ঠ ধাপে ২১৯টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩১ জানুয়ারি ষষ্ঠ ধাপের ইউপি ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসি সচিব জানান, আজকের (শনিবার) কমিশন সভায় ষষ্ঠ ধাপে দেশের ২১৯টি ইউপিতে আগামী ৩১ জানুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সবগুলো ইউপিতেই ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি জানিয়েছে, সারা দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৭৮টি। নির্বাচন হয়নি এমন ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৮০৫টি। এর মধ্যে নির্বাচন করার মতো উপযোগী রয়েছে ৩২৫টি। ওই ৩২৫টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২১৯টিতে ষষ্ঠ ধাপে তফসিল ঘোষণা করা হলো। বাকি ১০৬টি ইউনিয়ন পরিষদে কবে ভোট হবে- তা কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাথায় পতাকা, মুখে স্লোগান নিয়ে ‘বিজয় শোভাযাত্রা’ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বর্ণাঢ্য এই শোভাযাত্রা রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান সংলগ্ন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়েছে।
এর আগে ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে শোভাযাত্রায় যোগ দিতে এসেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
বর্তমানে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে যাচ্ছে এই র্যালি। মহানগরের প্রতিটি ইউনিটের পাশাপাশি যোগ দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও।
ব্যানার ফেস্টুন প্ল্যাকার্ড হাতে জয় বাংলা স্লোগানে দলে দলে যোগ দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্যরা। তারা বলছেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে আরও সমৃদ্ধি আর অর্থনৈতিক মুক্তির।
শোভাযাত্রাটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এর সামনে থেকে শুরু হয়ে শাহবাগ দিয়ে এলিফ্যান্ট রোড হয়ে ধানমন্ডি ৩২ এ ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনে গিয়ে শেষ হবে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এখন অনেকটাই সুস্থ। চিকিৎসকরা আরও দুই-তিন দিন হাসপাতালে বিশ্রাম নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দফতরের তথ্য অফিসার শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ওবায়দুল কাদেরের বুকে এখন ব্যথা নেই। রক্তচাপ-অক্সিজেন স্যাচুরেশন স্বাভাবিক আছে। তার স্বাস্থ্যের অবস্থা অনেক ভালো। নিজেই খেয়েছেন তিনি। হাঁটাচলাও করছেন।
আজ ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের মানুষকে শপথ পাঠ করাবেন। দেশের বিভাগীয় জেলা, জেলা ও উপজেলা স্টেডিয়াম ও বিজয় দিবসের নির্ধারিত ভেন্যু থেকে সাধারণ মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে শপথ বাক্য পাঠ করবেন। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চিঠি পাঠিয়ে এই শপথের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে শপথ অনুষ্ঠান আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে বিকেল ৪টায় সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। দেশব্যাপী সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এ শপথে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি সারাদেশের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। সব বিভাগ/জেলা/উপজেলা স্টেডিয়াম/মহান বিজয় দিবসের নির্ধারিত ভেন্যুতে শপথ অনুষ্ঠানটি আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে। ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ শিরোনামে আগামী ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হবে। এতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ উপস্থিত থাকবেন।
বিজয় দিবসের দিনে দেশবাসীকে সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের যে শপথ পাঠ করাবেন প্রধানমন্ত্রী তা হলো-
“জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি শাসকদের শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতি প্রতিষ্ঠা করেছে তার স্বতন্ত্র জাতিসত্তা।
আজ বিজয় দিবসে দৃপ্তকণ্ঠে শপথ করছি যে, শহিদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না- দেশকে ভালোবাসব, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শে উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সোনার বাংলা গড়ে তুলব।
পাকিস্তানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বানচালের চেষ্টা করেছিল জামায়াত নেতাকর্মীরা, জানিয়েছেন শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এ তথ্য জানান তিনি।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ যখন শেষের দিকে, বাঙালি জাতির বিজয় যখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। পাকিস্তানিদের বর্বরতার বিরুদ্ধে এবং মুক্তিকামী বাঙালি জাতির পক্ষে যখন বিশ্বজুড়ে জনমত তুঙ্গে, ঠিক তখনই নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পাকিস্তানিরা।
সময় নিউজের পাঠকদের জন্য সজীব ওয়াজেদ জয়ের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
‘মুক্তিযুদ্ধ যখন শেষের দিকে, বাঙালি জাতির বিজয় যখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র। পাকিস্তানিদের বর্বরতার বিরুদ্ধে এবং মুক্তিকামী বাঙালি জাতির পক্ষে যখন বিশ্বজুড়ে জনমত তুঙ্গে, ঠিক তখনই নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পাকিস্তানিরা।
তারা তখন জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে বাঙালি জাতির প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের অধিবেশনে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। উদ্দেশ্য, বাঙালির চূড়ান্ত বিজয় বানচাল করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথরুদ্ধ করা।
আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এও তৎপর হয়ে ওঠে পাকিস্তানিদের এটি ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের জন্য। এ জন্য তারা খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দীন ঠাকুর, মাহাবুবুল আলম চাষিদের সঙ্গে একটি ডানপন্থি বলয় গড়ে তোলে। তাদের টার্গেট ছিল- মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানিদের পরাজয় রোধ করা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন চিরতরে মুছে দেওয়া।
এরপর পাকিস্তানের সঙ্গে একটি কনফেডারেশন রাষ্ট্র গঠন করা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্কিন গোয়েন্দাদের সঙ্গে তাদের এই ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায়, প্রবাসী সরকারের নেতারা সতর্ক হয়ে যায়। ফলে তাদের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে থেমে ছিল না জামায়াত। শেষ পর্যন্ত তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বাসনা দমিয়ে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
রণাঙ্গনে যেমন জামায়াতের নেতাকর্মীরা সরাসরি পাকিস্তানের হয়ে যুদ্ধ করেছে, বাঙালি নারীদের ধর্ষণ করেছে, লুটপাট করেছে, জবরদখল করেছে, তেমনি কূটনৈতিকভাবেও বিভিন্ন রাষ্ট্রকে ভুল বুঝিয়ে মুক্তিযুদ্ধে তাদের সমর্থন দান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছে।
১৯৭১ সালের নভেম্বরে, যখন মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়ে পাকিস্তানি জান্তারা ঠিক তখনই পাকিস্তানি জান্তাদের সমর্থনে এবং বাঙালির জাতির বিরুদ্ধে জাতিসংঘে কথা বলতে যায় জামায়াতের মুখপাত্র ও মুসলিম লীগ নেতা নেতা শাহ আজিজুর রহমান।
সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধ বিষোদ্গার করে সে। পাকিস্তান কূটনৈতিক দলের বাঙালি নেতা হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে, বাংলাদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যার কথা অস্বীকার করে এই শাহ আজিজ। এমনকি অন্যান্য মুসলিম দেশকে যেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়, এ জন্য আহ্বান জানায় সে। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর এই ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসায়।
মুক্তিযুদ্ধকালে বাঙালি জাতির ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে জামায়াতের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছে তৎকালীন গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের উপদেষ্টা জেনারেল রাও ফরমান আলী।
আত্মজীবনীতে সে লিখেছে, ‘জেনারেল নিয়াজী বাংলাকে শত্রুভূমি হিসেবে আখ্যায়িত করে নিয়মিত বক্তব্য প্রদান করে সেনাদের খেপিয়ে তুলত। তবে আমি কিছু নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করি। ফলে নুরুল আমীন, খাজা খয়ের, ফরিদ আহমদ, শফিকুল ইসলাম, গোলাম আযমরা টিক্কার সঙ্গে দেখা করতে আসে এবং শান্তি কমিটি গঠন করে। তাদের উদ্যোগে মুসলীম লীগ, পিডিপি, জামায়াতে ইসলামীসহ আরে কয়েকটি পাকিস্তানপন্থি দলকে নিয়ে সারা দেশে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়।
৭ এপ্রিল যুদ্ধ চলাকালে তারা পাকিস্তানের পক্ষে ঢাকায় একটি মিছিলও বের করেছিল। এরপর পাকিস্তানি সেনাদের যুদ্ধে সহযোগিতা করা, রাজধানীর বাইরে রাস্তাঘাট চিনিয়ে দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত করাসহ সার্বিক কাজের জন্য রাজাকার নামে আরেকটি বাহিনী গঠন করা হয়। এমনকি যুদ্ধকালে নিয়াজীর তৈরি সশস্ত্র আলবদর ও আলশামস বাহিনীও দারুণ সহযোগিতা করেছে পাকিস্তানি সেনাদের। এসব বাহিনীর প্রধান ছিল গোলাম আযম, শাহ আজিজ, নিজামী, মুজাহিদসহ শীর্ষ জামায়াত ও শিবিরের নেতারা।’
খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ৭১-এর ধর্ষক-খুনিদের এই কমান্ডারদের মন্ত্রী বানিয়েছিল।
মূলত, পাকিস্তানি দখলদার সেনাদের শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছিল রাজাকার বাহিনী। সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এ জন্য প্রায় ৫০ হাজার জামায়াত নেতাকর্মীকে প্রশিক্ষণ দেয় পাকিস্তানি সেনারা। এ সময় একদিন জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর জেনারেল একে নিয়াজি তার জনসংযোগ কর্মকর্তা মেজর সিদ্দিক সালিককে ডাকে।
সিদ্দিক সালিক তার আত্মজীবনীতে লিখেছে যে, এরপর নিয়াজি তাকে বলেছিল, ‘আজ থেকে তুমি রাজাকারদের আলবদর ও আলশামস বলে অভিহিত করবে। তাহলে বোঝা যাবে না যে, এরা কোনো নির্দিষ্ট পার্টির লোক।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবার ও মুক্তিযুদ্ধের সব ছবির স্বত্ব কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়, এসব ছবির মালিক রাষ্ট্রই বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চ এ রায় দেন। বঙ্গবন্ধুর নামে বইয়ের মেধাস্বত্ব চুরি ও গ্রন্থস্বত্ব জালিয়াতির ঘটনায় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে পর্যবেক্ষণসহ এ রায় দেয় আদালত।
আদালতে রিটকারী আইনজীবী সায়েদুল হক সুমনের পক্ষে ছিলন আইনজীবী অনিক আর হক। আর সাংবাদিক নাজমুল হোসেনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক।
রায়ের পর পর সাংবাদিক নাজমুলের আইনজীবী বলেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক ছবিগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং মুক্তিযুদ্ধ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে। এখন আমরা সেই ছবিগুলোর কপিরাইট দাবি করব না, তবে বইয়ের কপিরাইট আমাদেরই থাকবে। এটাই আদালতের পর্যবেক্ষণ।’
অন্যদিকে রিটকারীর আইনজীবী অনিক আর হক বলেন, ‘আদালত আজ আদেশ দিয়েছে, বঙ্গবন্ধুর ছবিতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো স্বত্ব থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর ছবির স্বত্ব থাকবে জনগণের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে। এখানে কেউ নিজের কপিরাইট দাবি করতে পারবে না।
উল্লেখ্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নারে’ মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার নিয়ে ৩৯টি বই কেনার অনুমতি দেওয়া হয় ২০১৯ সালে।
রায়ে বলা হয় ‘বঙ্গবন্ধু মানেই স্বাধীনতা’ ও ‘৩০৫৩ দিন’ বইয়ের মেধাস্বত্ব কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দাবি করতে পারবে না। বঙ্গবন্ধুর ছবির স্বত্ত্ব থাকবে জনগনের ও রাষ্ট্রের।
বই দুইটিতে ব্যবহৃত ছবিতে কৃতজ্ঞতা উল্লেখ করতেও বলা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বই দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।