ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষা ও স্বাধীনতা সমুন্নত রেখে সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলা গড়ে তোলার কাজ চলছে। মুজিববর্ষ ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ’- শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে স্পিকার এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় কমিটি বাস্তবায়নের প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। স্পিকার বলেন, বাঙালী জাতি ভাষা ও স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে- যা বিশ্বে বিরল। কোন অনুকম্পা নয় কিংবা কারো দানে নয়, রক্তে ভেজা বাংলাদেশের সংবিধান- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনন্য উপহার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে জাতির অস্তিত্বকে হুমকির সম্মুখীন করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলেছে। রূপকল্প ২০২১ আজ বাস্তবতা এবং রূপকল্প ২০৪১ ও বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে চলেছে। তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে এদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুফল পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্পিকার। পরে তিনি শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে প্রেসক্লাবের তিন দিন ব্যাপী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও মনজুরুল আহসান বুলবুল। এছাড়াও অনুষ্ঠানের আহবায়ক মোঃ আইয়ুব ভূঁইয়া, জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী পলাতক দন্ডিতদের ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক দাবী জানাবো। পলাতক বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। সেখানে আমি দন্ডিত পলাতক দুইজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি করেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, আমরা যেন ফর্মালি (আনুষ্ঠানিক) এই দাবি করি। আমি তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ফর্মালি দাবি করবো। আজ বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বিচারকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৩০ জন জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজ ২৬ তম বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। আজ ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ চলবে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন – আইন সচিব গোলাম সারোয়ার, প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া। আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনক ও কল্পনাপ্রসূত। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, তাদের একটা কর্তব্য থাকে, সেটা হচ্ছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং যাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়, তাদের আত্মপক্ষ বক্তব্য শোনার। মন্ত্রী বলেন, এটা দুঃখজনক যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়েই এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আমি এটাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, যে সব দোষে র্যাব বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দোষী করা হয়েছে তা ঠিক নয় এবং এটা কল্পনাপ্রসূত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট কর্তৃক বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের অভিযোগের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশে কোন বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়নি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার আবেদন করেছেন সেই আবেদনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, একটু অপেক্ষা করুন জানতে পারবেন। এর আগে মামলাজট কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মানুষ বিচারের জন্য হাহাকার করছে। যখন তারা আদালতে বিচার পাবেন না, তখন কিন্তু বিচারের জন্য রাস্তায় নামবেন। আমরা কেউই এমন অবস্থা চাই না। মন্ত্রী মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে দুপুরে একঘন্টা বিরতি দিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়কে যথাযথ কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের আগমুহূর্তে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অন্যতম দুই হোতা ঘাতক আলবদর বাহিনীর নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মামলায় মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এ দুই আসামিই পলাতক। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজ এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।