রাজধানীতে পৃথক ঘটনায় গৃহকর্মীসহ তিন জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন- শান্তি নগরের বাসিন্দা সাদিয়া (১৬), মান্ডা এলাকার বিদ্যুৎ (১৮) ও রামপুরার রিনভী আক্তার (২৩)। গতরাতে এই পৃথক ঘটনাগুলোতে তাদের মৃত্যু হয়।
পল্টন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান জানান, সাদিয়ার বাড়ি ফরিদপুর জেলায়। তার বাবার নাম সাইদুল ইসলাম। বেশ কয়েক মাস ধরে সাদিয়া শান্তিনগরের পীর সাহেব গলির ১২৫ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতো। গতকাল রাতে সে বাসায় একাই ছিল।
গৃহকর্তা পরিবারসহ নারায়ণগঞ্জের একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। সেখান থেকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা বাসায় ফিরে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাসার সিকিউরিটি গার্ডকে সঙ্গে নিয়ে তালা-চাবি মিস্ত্রী এনে কক্ষের দরজা খুলেন। এসময় কক্ষের ভেতর ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় সাদিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে থানায় খবর দিলে ওই বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়।
আনিসুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের পর ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে মুগদার উত্তর মান্ডা খালপাড় এলাকায় ৩৫/১ বাড়ির নিচ তলায় দাদা- দাদির সাথে থাকতো বিদ্যুৎ। তার বাবা মৃত কামাল হোসেন। বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জে।
তার চাচা আবুল কালাম জানান, বিদ্যুৎ রাজমিস্ত্রীর হেলপার হিসেবে কাজ করতো। কিছুটা মাদকাসক্ত ছিলো সে। গতরাতে খাবার খেয়ে সে বাসা থেকে দ্রুত বের হয়ে যায়। এতে বিদ্যুতের ছোট চাচার সন্দেহ হলে কিছুক্ষণ পর তাকে খুঁজতে বের হন। রাত ১১টার দিকে বাড়িটির পঞ্চম তলার ছাদে পানির পাইপের সাথে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান তাকে। পরে পুলিশে খবর দিলে তারা মরদেহ উদ্ধার করে।
অপরদিকে রিনভী আক্তারের মামা শহিদুল ইসলাম জানান, রিনভীর স্বামী রাসেল যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। মা-বাবার সাথে রামপুরার তালতলা বি ব্লকের একটি বাসায় থাকতো সে। গতরাত ১১টার দিকে মায়ের সাথে ঝগড়া করে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মো. বাচ্চু মিয়া জানান, রামপুরার রিনভীর মরদেহ স্বজনদের সুপারিশের ভিত্তিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বাকি দুটি মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। দুপুরে তাদের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
সুবর্ণ বিজয়ের সকাল থেকেই জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সাধারণ মানুষের ঢল নেমেছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে । আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা নিবেদন পর সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয়া হয় স্মৃতিসৌধের বেদি। পরে একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় নানা বয়সের মানুষের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধে হাজির হন। শ্রদ্ধা জানাতে বড়দের পাশাপাশি উপস্থিত হয় শিশুরাও।
এদিকে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশের এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সৌধ এলাকায় নিরাপত্তা চৌকি, পর্যবেক্ষণ টাওয়ারসহ বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়নোসহ নিরাপত্তার স্বার্থে সৌধের আশপাশের চলাচলকারীদেরও তল্লাশি করা হচ্ছে।
রাজধানীর নিকুঞ্জ-১ এ মোটরসাইকেল ধাক্কায় হাবিবুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুপুর ১২টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বরিশাল গৌরনদী উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার মোল্লার ছেলে হাবিবুর। কুড়িল বিশ্বরোড শেওড়া বাজার এলাকায় থাকতেন হাবিবুর।
খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম জানান, সকালে নিকুঞ্জ-১ নম্বর গেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয় বলে জানতে পেরেছি। এতে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থান অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোটরসাইকেলচালককে আটক করার চেষ্টা চলছে। মরদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এদিকে নিহতের ভাই মো. মিজানুর রহমান জানান, হাবিবুর উত্তরায় ইসলামী ব্যাংকের অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করেন। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে অফিসে যাচ্ছিলেন। তখন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, আমরা কোনো মামলা করতে চাই না। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়া বাড়ি যেতে চায়।