ইভ্যালি প্রতারণার মামলায় সোমবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি আতোয়ার রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ আদেশে অভিনেত্রী মিথিলা ও শবনম ফারিয়াকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট। মিথিলার পক্ষে হাইকোর্টে শুনানি করেন আইনজীবী নিয়াজ মোরশেদ; ফারিয়ার পক্ষে ছিলেন জেসমিন সুলতানা।
এদিকে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল এবং তার স্ত্রী কোম্পানির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে ইতোমধ্যে গ্রাহকের করা প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে স্ত্রী জ্যোৎস্না বেগমকে হত্যার দায়ে স্বামী ইসমাইল হোসেন সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা দেন।
লক্ষ্মীপুর জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) জসিম উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, স্ত্রীকে হত্যার দায়ে সুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের সময় সুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদী বাহার উদ্দিন বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করে সুজন হাসপাতালে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে গিয়ে মেয়ের মরদেহ পাই। সুজনের যাবজ্জীবন দণ্ডে আমি সন্তুষ্ট।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের পেয়ারাপুর গ্রামের মমিন উল্যা পাটোয়ারীর ছেলে সুজনের সঙ্গে জ্যোৎস্না বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে সৌরভ ও সুরভী নামে দুটি সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকে সুজনসহ তার পরিবারের লোকজন জ্যোৎস্না বেগমের ওপর শারিরীক ও মানসিক অত্যাচার চালায়। শিশুদের কথা চিন্তা করে একাধিকবার সালিসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হয়।
এর মধ্যে সুজন একটি মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল পরকীয়ার ঘটনা নিয়ে সুজনের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২০ এপ্রিল স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন জ্যোৎস্নাকে বেদম মারধর করে।
খবর পেয়ে তার বাবা বাহার উদ্দিন ওই বাড়িতে গিয়ে মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন দেখে। ওই দিন ঘটনার মীমাংসা করে চলে এলেও পর দিন সকালে বাহারের কাছে খবর যায় তার মেয়েকে অচেতন অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাহারসহ পরিবারের লোকজন হাসপাতালের বারান্দায় মেয়ের মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় সুজন ও তার পরিবারের কেউই ছিল না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় মৃত অবস্থায় জ্যোৎস্নাকে নিয়ে আসা হয়েছে। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখমের চিহ্ন রয়েছে।
স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। ঘটনাটি ভিন্নদিকে প্রভাবিত করতে স্থানীয়ভাবে জ্যোৎস্নার গলায় ফাঁস দিয়েছে বলে রটানো হয়।
মেয়েকে হত্যার ঘটনায় বাবা বাহার উদ্দিন বাদী হয়ে ২২ এপ্রিল সুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। বাহার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ বাঞ্চানগর এলাকার বাসিন্দা।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ২২ এপ্রিল এলাকা থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে হত্যার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ১৬৪ ধারায় আদালতে সুজন জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে একই বছর ২৬ সেপ্টেম্বর সুজনের বিরুদ্ধে সদর থানা পুলিশ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
গ্রেপ্তারের পর থেকে সুজন কারাগারেই ছিলেন। ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সুজনকে যাবজ্জীবন কারা দণ্ডিত করে।
ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের সাবেক যুগ্ম-মহাসচিব মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
তারা হলেন- রিসোর্টের অভ্যর্থনা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান অনি, সুপার ভাইজার আবদুল আজিজ পলাশ ও আনসার সদস্য রতন বড়াল।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নাজমুল হক শ্যামল এর আদালতে তাদের এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
এর আগে সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মামুনুল হককে নারায়ণগঞ্জের আদালতে আনা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার সময় তাকে আদালতে হাজির করা হলে ২টা পর্যন্ত চলে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম। পরে মামুনুলকে কাশিমপুর কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিবুদ্দিন আহমেদ জানান, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই ধর্ষণ মামলায় ৪৩ জন সাক্ষী রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়্যাল রিসোর্টের সুপারভাইজার আব্দুল আজিজ পলাশ, পাবলিক রিলেশন অফিসার নাজমুল হাসান অনি ও আনসার সদস্য রতন বড়াল সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাদের জেরা করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী।
তিনি আরও জানান, আদালত ৫ জন সাক্ষীকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও চারজন উপস্থিত হয়েছেন। তবে আদালতে হাজিরা দেওয়া ইসমাইল হোসেন নামে আরেক আনসার সদস্যের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি। পরের তারিখে তার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হতে পারে। এর আগে গত ২৪ তারিখ একই আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী নারী জান্নাত আরা ঝর্ণা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রকিবুদ্দিন আরও বলেন, আদালতে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেন। তারা গত ৩ এপ্রিল রয়্যাল রিসোর্টের ঘটনা আদালতকে জানান।
সাক্ষীরা আদালতকে বলেন, ‘ওইদিন রিসোর্টে বিশৃঙ্খলার পর ওই নারীর কী সম্পর্ক জানতে চাইলে তাকে স্ত্রী দাবি করেন মামুনুল। তবে এই বিষয়ে বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি তিনি। রিসোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যান্যদের সামনেই মামলার বাদী ও ভুক্তভোগী নারী বিয়ের প্রলোভনে রিসোর্টে এনে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পরে সকলের সামনে ওই কথা স্বীকারও করেন মামুনুল হক।’
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হেফাজত নেতা মামুনুল হক জান্নাত আরা ঝর্ণাকে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে নিয়ে ধর্ষণ করেছেন এমন অভিযোগ তুলে ৩০ এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী ঝর্ণা।
ওই মামলায় ৩ নভেম্বর মামুনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ২৪ নভেম্বর আদালতে সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী ঝর্ণা।
ঢাকা থেকে বরিশালে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ কুয়াকাটা-২ এর কেবিন থেকে শারমিন আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী মো. মাসুদকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শারমিন আক্তার ঢাকার কুনিপাড়া এলাকার এনায়েত হোসেনের মেয়ে।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) র্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম খান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে বরিশালগামী এমভি কুয়াকাটা-২ লঞ্চের কেবিন থেকে শারমিন আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী মো. মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিকেলে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
ঘটনার দিন ১০ ডিসেম্বর বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত জামান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে কুয়াকাটা-২ লঞ্চ। শুক্রবার সকালে বরিশাল বন্দরে পৌঁছায়। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর কর্মচারীরা কেবিনগুলো পরিষ্কার শুরু করেন। এসময় লঞ্চের নিচতলার একটি স্টাফ কেবিন তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে তালা ভেঙে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌ-পুলিশকে খবর দিলে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঢাকা, ১২ ডিসেম্বর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এমপি বলেছেন, ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী পলাতক দন্ডিতদের ফিরিয়ে আনতে আনুষ্ঠানিক দাবী জানাবো। পলাতক বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছে। সেখানে আমি দন্ডিত পলাতক দুইজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দাবি করেছি। তিনি আমাকে বলেছেন, আমরা যেন ফর্মালি (আনুষ্ঠানিক) এই দাবি করি। আমি তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ফর্মালি দাবি করবো। আজ বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত বিচারকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ৩০ জন জেলা ও দায়রা জজ এবং মহানগর দায়রা জজ ২৬ তম বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। আজ ১২ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ প্রশিক্ষণ চলবে। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন – আইন সচিব গোলাম সারোয়ার, প্রশিক্ষণ কোর্সের পরিচালক গোলাম কিবরিয়া। আনিসুল হক বলেছেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং সংস্থাটির সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয় অত্যন্ত দুঃখজনক ও কল্পনাপ্রসূত। তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে, তাদের একটা কর্তব্য থাকে, সেটা হচ্ছে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং যাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়, তাদের আত্মপক্ষ বক্তব্য শোনার। মন্ত্রী বলেন, এটা দুঃখজনক যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ না দিয়েই এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, আমি এটাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, যে সব দোষে র্যাব বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দোষী করা হয়েছে তা ঠিক নয় এবং এটা কল্পনাপ্রসূত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট কর্তৃক বাংলাদেশে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের অভিযোগের বিষয়ে আনিসুল হক বলেন, বাংলাদেশে কোন বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড হয়নি। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার আবেদন করেছেন সেই আবেদনের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, একটু অপেক্ষা করুন জানতে পারবেন। এর আগে মামলাজট কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মানুষ বিচারের জন্য হাহাকার করছে। যখন তারা আদালতে বিচার পাবেন না, তখন কিন্তু বিচারের জন্য রাস্তায় নামবেন। আমরা কেউই এমন অবস্থা চাই না। মন্ত্রী মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়াতে দুপুরে একঘন্টা বিরতি দিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সময়কে যথাযথ কাজে লাগানোর তাগিদ দেন। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের আগমুহূর্তে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অন্যতম দুই হোতা ঘাতক আলবদর বাহিনীর নেতা চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার মামলায় মৃত্যুদন্ড দিয়ে রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। এ দুই আসামিই পলাতক। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আজ এ কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে ফরিদপুর থানা পুলিশের একটি দল ঢাকার পান্থপথ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃত সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ। সিদ্দিকুরের আটকের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আজ শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা জানান, সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিস, বিভিন্ন হাট বাজার ইজারা, বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ, ভূমি দখলসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে ত্রাস সৃষ্টি করে টেন্ডার ছিনতাই করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছে।
সিদ্দিকুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি কুখ্যাত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ বরকত রুবেল অন্যতম সহযোগী সিদ্দিকুর রহমানকে (৪০) গতকাল রাতে ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে আবেদনের প্রক্রিয়া গ্রহণসহ তদন্ত অব্যাহত আছে। পরবর্তীতে আরও তথ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
আবাসিক হোটেলে মেয়ের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা গ্রহণেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) এক আদেশে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ওই পুলিশের বিরুদ্ধে গত বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর সুন্দরবন হোটেলে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই রাতেই অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বাগেরহাট জেলার মোংলা থেকে শিশুকন্যা ও এক ভাগ্নেকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় আসেন ওই নারী। তবে সিরিয়াল না পাওয়ায় রাতে থাকার জন্য নগরীর সুন্দরবন হোটেলে মেয়েকে নিয়ে ওই নারী থাকেন। রাত সোয়া ২টার দিকে হোটেল বয়কে নিয়ে পুলিশ পরিচয়ে রুমে প্রবেশ করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। এরপর হুমকি-ধামকি দিয়ে হোটেল বয়কে রুম থেকে তাড়িয়ে দেন। রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ভয়-ভীতি দিয়ে জোর করে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন জাহাঙ্গীর। এসময় ওই নারী ও তার মেয়ের চিৎকারে হোটেল বয় ও অন্যরা এগিয়ে আসলে জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়। পরে ভাগ্নে সবশুনে হোটেল মালিককে বিষয়টি জানালে সে এসে হোটেলের মেইন গেট তালাবদ্ধ করে রাখে এবং পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং আসামিকে আটক করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়মিত মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিশনাল ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মো. শাহজান শেখ বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারীকে বুধবার (৮ ডিসেম্বর) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) ওসিসি থেকে ভুক্তভোগীকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির মিরপুর বিভাগের কাফরুল থানা থেকে সহকারী পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলামের মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে ফোনটি চুরি হয়।
এর আগে ৩টায় কাফরুল থানায় একটি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষ করে সহকারী পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম থানা ত্যাগ করে বের হতে গেলে তার একটি মোবাইল ফোন খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে থানার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়।
থানার বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীদের খোঁজাখুঁজির পর একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়। তবে খুঁজে পাওয়া ফোনটি আদৌ মঈনুল ইসলামের কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।