মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের ওপর থেকে তুলে নেওয়া হবে বিধিনিষেধ। প্রথম ধাপে আছেন হংকং, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত- এই ৪ দেশের যাত্রীরা। বিধিনিষেধ শিথিল হলে এই চার দেশের যেসব যাত্রী সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করবেন, তাদের জন্য কোয়ারেন্টাইন আর বাধ্যতামূলক থাকবে না। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গত বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া, ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়াসহ ১২ দেশের যাত্রীদের ক্ষেত্রে সীমান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করেছিল সিঙ্গাপুরের সরকার; কিন্তু ওই মাসের শেষ দিকে বিশ্বজুড়ে ওমিক্রনের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর ডিসেম্বরে ফের বিধিনিষেধ কঠোর করে সিঙ্গাপুর।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ৪ দেশের পাশাপাশি আগে যেসব দেশের ওপর থেকে সীমান্ত বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছিল, সেসব দেশের যাত্রীরাও কোয়ারেন্টিনমুক্ত ভ্রমণের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ২০২০ সালে মহামারি শুরুর পর থেকে বিশ্বের যেসব দেশ সবচেয়ে দক্ষভাবে প্রাণঘাতী রোগ করোনার সংক্রমণ-মৃত্যু মোকাবিলা করতে পেরেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম সিঙ্গাপুর। কঠোর সীমান্ত বিধিনিষেধ, নাগরিকদেরকে স্বাস্থ্যবিধি পালনে উদ্বুদ্ধ করা ও সফল টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর্যন্ত মহামারিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল দেশটি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যার ৯৫ ভাগেরও বেশি করোনা টিকার দুই ডোজ সম্পূর্ণ করেছেন, আর ৫৪ শতাংশ নিয়েছেন টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ।
ওমিক্রনের আবির্ভাবের পর বিশ্বের অনেক দেশের মতো সিঙ্গাপুরেও বাড়তে থাকে করোনার দৈনিক সংক্রমণ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দেশটিতে করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হচ্ছেন ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার মানুষ। বুধবারও দেশটিতে করোনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৭৯ জন।
ডিসিএন বাংলা/আ.নি.