মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশের সব স্তরের মানুষকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। সে অনুযায়ী রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) প্রথম ডোজ প্রাপ্তদের সংখ্যা ১০ কোটির মাইলফলক ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে করোনা পরিস্থিতির হালনাগাদ চিত্র তুলে ধরতে আয়োজিত স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা অনুযায়ী সরকার দেশের ৭০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে চায়। সে হিসাব অনুযায়ী ১১ কোটি ৯২ লাখ ২১ হাজার ৯৫৩ জনকে করোনা টিকা দেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যে এগোচ্ছে টিকা কার্যক্রম। গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি দেশে করোনা টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। এক বছর পর প্রথম ডোজ টিকা প্রাপ্ত মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, আজই এই মাইলফলক ছাড়িয়ে যাবে।
জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছে ৯ কোটি ৮৯ লাখের বেশি মানুষ। আর দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৬ কোটি ৪৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে ১ কোটি ৪১ লাখ শিক্ষার্থী প্রথম ডোজের টিকা পেয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ২৬ লাখ। এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড-১৯ ড্যাশবোর্ডে সবশেষ ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যে থেকে জানা গেছে, এ পর্যন্ত বুস্টার ডোজ পেয়েছেন ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৭২৪ জন। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে দেশে কোভিড টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়।
নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দুই দিন ধরে সংক্রমণে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে সামগ্রিক করোনা সংক্রমণ নিম্নমুখী, তা এখনো বলার সময় হয়নি। শনাক্তের বিপরীতে এখনো দৈনিক মৃত্যু বেশি হচ্ছে।’ এছাড়াও ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমে আরও একধাপ এগোলো বাংলাদেশ। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পর এবার রাজধানীর কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে করোনার টিকা। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ১২-১৮ বছরের কওমি শিক্ষার্থীরা পাবে ফাইজার আর ১৮ বছরের বেশি হলে মিলবে সিনোফার্মের টিকা। প্রথম দিনে লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ছয়শ শিক্ষার্থী। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে করোনা টিকার আওতায় আনা হবে। এদিকে, করোনায় কমেছে শনাক্ত ও মৃত্যু। রোববার দুপুর পর্যন্ত সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ২৯ জন। শনাক্তের হার ২১ শতাংশের ওপরে।
ডিসিএন বাংলা/জা.টি.নি.