৭০ শতাংশ নয়, ৫০ শতাংশ সিলেবাস চাই, সিলেবাসের ওপর সময় নির্ধারণ, গ্রুপিয়াল বিষয়ে পরীক্ষা ও করোনার অজুহাত না দেখিয়ে এইচএসসি পরীক্ষা-২০২২ এর পরীক্ষা নেওয়ার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে নোয়াখালীতে মানববন্ধন করেছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরে তারা শহরে একটি র্যালি করে।
শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থী ব্যাচ ২০২২’ এর ব্যানারে মাইজদী টাউন হল মোড়ে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা। পরে তারা একটি র্যালি বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নোয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধন ও র্যালিতে নোয়াখালী সরকারি কলেজ, নোয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ, চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজ, কবিরহাট সরকারি কলেজ, ন্যাশনাল মডেল কলেজ, মাইজদী পাবলিক কলেজ, বাধেরহাট কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে কয়েকজন অভিভাবক এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের আগের ব্যাচের পরীক্ষার্থীরা সরাসরি ক্লাস করে মাত্র ৩টি বিষয়ের পরীক্ষা দিয়েছে। কিন্তু আমরা মাত্র ৬ মাস ক্লাস করে কেন ৭০ শতাংশ সিলেবাসে পরীক্ষা দেব। আমরা এ বৈষম্যের নিন্দা জানায়। আমাদের এ ৪ দফা দাবি মেনে না নেওয়া হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলন করবো।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজ প্রতিযোগিতায় বান্দরবানে প্রথম এবং চট্টগ্রামে বিশেষ পারদর্শিতা পুরস্কার পেয়েছে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে আয়োজিত কুচকাওয়াজ প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক পর্যায়ে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের মেয়ে কোয়ান্টারা অংশ নেয়। কুচকাওয়াজে দলের কমান্ডার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা আক্তারের নেতৃত্বে বুদ্ধিদীপ্ত প্যারেড নৈপুণ্য মুগ্ধ করেছে স্টেডিয়াম ভর্তি সব দর্শককে। এজন্য তারা বিশেষ পারদর্শিতা পুরস্কারে ভূষিত হয়।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কামরুল হাসান এনডিসি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত কুচকাওয়াজে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে স্কুলটির ছেলে শিক্ষার্থী কোয়ান্টারা। পাশাপাশি ‘চলো এগিয়ে যাব বাধা মানি না’ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিসপ্লে প্রদর্শন করে স্কুলের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ১৬৮ জন শিক্ষার্থী। মনোমুগ্ধকর এই ডিসপ্লেতেও তারা পেয়েছে প্রথম স্থান।
অনুষ্ঠান শেষে পুরো স্টেডিয়াম চত্বর পরিষ্কার করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের শিক্ষার্থীরা। আগের দিন বুধবারও (১৫ ডিসেম্বর) তারা মহড়া শেষে পরিচ্ছন্নতার কাজ করে। এই দৃষ্টান্ত দেখে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা প্রশাসক ইয়াছমিন পারভীন তিরবীজি ও বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরিন আখতার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাধুবাদ জানান।
মহান বিজয় দিবসে লামা উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ প্রতিযোগিতাতেও সাফল্য পেয়েছে ছেলে কোয়ান্টারা। লামা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় গ্রুপে প্রথম হওয়ার পাশাপাশি ডিসপ্লেতেও তারা প্রথম হয়। এবারের ডিসপ্লেতে অংশ নেয় কোয়ান্টাম কসমো স্কুলের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির ১৭১ জন কোয়ান্টা। ‘নোঙ্গর তোলো তোলো সময় যে হলো হলো’ সংগীতের সঙ্গে এই ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত ডিসপ্লে মুগ্ধ করে হাজারো দর্শককে। এছাড়া অনুষ্ঠান শেষে কোয়ান্টাদের একটি ব্যান্ড বাদন দল সংক্ষিপ্ত পারফর্মেন্স করে। এতে অনুষ্ঠানে নতুন মাত্রা যোগ হয়। তারাও বিশেষ পুরস্কার লাভ করে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল চৌধুরী, লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা জাবেদ কায়সার এবং উপজেলা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
২০০১ সালে মাত্র সাতজন মুরং শিশু নিয়ে যাত্রা শুরু করে কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ। ২০ বছরের পরিক্রমায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এখন এখানে আড়াই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বঞ্চিত শিশু ও এতিমদের নিয়ে এই স্কুলের রয়েছে শিক্ষা ও ক্রীড়ায় দেশসেরা সাফল্য। ঢাকায় জাতীয় শিশু-কিশোর কুচকাওয়াজে তারা প্রথম হয়েছে ২০১৫ থেকে টানা পাঁচ বছর। বুয়েট, মেডিকেল ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে কোয়ান্টারা।
মাদারীপুরে সারাদিন অপেক্ষা করেও করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন না পাওয়ায় বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। রোববার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা সদর হাসপাতালের সামনে এই বিক্ষোভ করা হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সকাল ৮টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী। সন্ধ্যার দিকে শেষ হয়ে যায় করোনা ভ্যাকসিন (ফাইজার)। তখন হাসপাতাল থেকে জানানো হয় রোববার শিক্ষার্থীদের আর কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। তাদের জন্য বরাদ্দকৃত ভ্যাকসিন শেষ হয়ে গেছে।
পরে ভ্যাকসিন দেওয়ার কক্ষগুলো তালা দিয়ে চলে যায় দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও স্বেচ্ছাসেবকরা। এতে ক্ষোভে ফেটে পরে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে হাসপাতালে ঢোকার প্রথম গেটের একটি দরজা ভেঙে ফেলে। পরিবেশ উত্তপ্ত হলে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখান থেকে চলে যায় শিক্ষার্থীরা।
মাদারীপুর শহরের আলহাজ আমিনউদ্দিন হাইস্কুলের বাণিজ্য বিভাগের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত কাজী অভিযোগ করে বলে, সারাদিন আমাদের রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখে। পরে সন্ধ্যায় বলে ভ্যাকসিন শেষ। আমাদের ভ্যাকসিন দিতে পারবে না, সেটা আগে বললে আমরা চলে যেতাম। আমাদের সাথে এমন ব্যবহার করা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঠিক হয়নি।
মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন কার্যক্রমের সমন্বয়কারী ডা. ইকরাম হোসেন জানান, মাদারীপুর জেলায় ১৮ হাজার ৭২০ জন এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষাদের ফাইজারের করোনার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। পরে রোববার বিকেলে চলমান কার্যক্রমে শেষ হয়ে যায় এই গ্রুপটির ভ্যাকসিন। যারা আন্দোলন করেছে তারা কোনো পরীক্ষার্থী নয়, তাদের বয়স ১২-১৭ বছরের মধ্যে হবে। আমাদের টার্গেট ছিল শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন দেওয়া, সেটা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা দেখে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করার চেষ্টা করলে তাদের বুঝিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কটূক্তি কোন সভ্য সমাজ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
বঙ্গভবনের পাশে টিকাটুলিতে শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে মিথ্যা ও কটূক্তিকারী বিএনপি নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধনে একাত্মতা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
ওই মানববন্ধনে তিনি আরও বলেন, বিএনপি সব সময় অপরাজনীতি করে, দেশকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করছে।
মানববন্ধনে অংশ নেন শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও। পরে মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামেও নৌযানসহ সব গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া আদায়সহ ৬ দফা দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের সড়কে নেমেছে বরিশালের শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (০৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় নগরীর সদর রোডে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে মানববন্ধন শেষে ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করেন তারা।
এ সময় আবারও ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, এবার দাবি পূরণ না হলে জেলা প্রশাসক দপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএ-এর কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিএম কলেজের শিক্ষার্থী রাহুল দাশ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আলিশা মুনতাজ, শাকিবুল ইসলাম শাকিব, সামিয়া লায়মন, তামিম ইসলাম, রিফাত মারফিয়া, অদিতি ভট্টাচার্য, হাফিজুর রহমান রাকিব, জিম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বরিশালের নৌযানসহ সব গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়া আদায়, নৌবন্দরে প্রবেশে ঘাট টিকিট মওকুফ ও নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে রোববার প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো সাড়া না পেয়ে ফের আন্দোলনে নেমেছেন তারা। তাদের দাবি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূরণ করতে হবে। অন্যথায় জেলা প্রশাসকের দপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএ-এর কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন করা হবে বলে হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা প্রধান সড়ক সদর রোড এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন তারা।
একই দাবিতে গত রোববার সকালে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। তখন দাবি আদায়ে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। বেঁধে দেওয়া সময়ে দাবি পূরণ না হওয়ায় ফের আন্দোলনে নেমে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।