আপিল বিভাগে রায়ের ব্যাখ্যায় এটর্নি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত বিচারকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার (১ ডিসেম্ভর)রায় ঘোষণা করেন। চূড়ান্ত রায়ে বলা হয়েছে, যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছরের সাজা, আমৃত্যু সাজা নয়।
ভার্চুয়াল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্ত ছিলেনন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। আর আসামি পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন ও আইনজীবী শিশির মনির। গত বছর ১১ জুলাই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চে শুনানি শেষে রিভিউ আবেদনটির রায় (সিএভি) অপেক্ষমাণ রাখেন। তার আগে রিভিউ শুনানিতে সর্বোচ্চ আদালত পাঁচ অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্য শোনেন। তারা হলেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ, এএফ হাসান আরিফ, আবদুর রেজাক খান, মুনসুরুল হক চৌধুরী ও এএম আমিন উদ্দিন।
সেলিমপুত্র ইরফানের নৌ-কর্মকর্তা ওয়াসিফকে মারধরের মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। অভিযোগপত্র জমা হতে পারে ডিসেম্বরেই। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে, ইরফানসহ ৫ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এর মধ্যে চার জন গ্রেপ্তার হলেও, পলাতক পঞ্চম আসামি। তাকে শনাক্ত করে গোয়েন্দারা বলছেন, তিনি ইরফানের আরেক দেহরক্ষী। ওয়াসিফকে মারধরেও জড়িত তিনি। পাশাপাশি খোঁজ চলছে, ঘটনাস্থল থেকে যে গাড়িতে করে ইরফান চলে যান সেটির।
তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। এসব তথ্য-প্রমাণসহ ডিসেম্বরেই অভিযোগপত্র জমা দেয়া হবে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে দেহরক্ষী জাহিদ এরই মধ্যে দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ������^f� �ҝ
মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে হাইকোর্ট। আজ মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর)সকালে বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মঈন উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নিষেধাজ্ঞা দেয়। সেই সময়ের কী পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র আছে, কী অবস্থায় আছে সে বিষয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে আদালত। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।
এসব আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয় গেলো ১৫ নভেম্বর। এতে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো বিক্রি ও স্থানান্তর অবৈধ ঘোষণার পাশাপাশি জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ওইসব অস্ত্র সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোনো সংগঠনে হস্তান্তরে নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করা হয়। পাশাপাশি ওই সব অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বা মুক্তিযুদ্ধসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে হস্তান্তরের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না—এ মর্মে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অর্থসচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বাণিজ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়।
গত ৫ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্র বেচতে চায় সরকার’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়েছে, এমন আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সরকার বেচে দিতে চায়। সরকারের যুক্তি হচ্ছে এগুলো পুরোনো, অপ্রচলিত এবং যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে অকার্যকর। ফলে রাখার কোনো দরকার নেই। প্রাচীন নিদর্শন বা স্মৃতিচিহ্ন (অ্যান্টিক সুভ্যেনির) হিসেবে অস্ত্রগুলো কিনে নিতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ও সুইজারল্যান্ডের একটি অস্ত্র আমদানিকারক কোম্পানি।
এদিকে পুরোনোর পাশাপাশি নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিরও উদ্যোগ রয়েছে সরকারের। প্রথম উদ্যোগটি নেওয়া হয় ১৬ বছর আগে। এ বিষয় নিয়ে আবারো নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রপ্তানি করতে চাওয়া পুরোনো অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যে তৈরি ০.৩০৩ রাইফেল নম্বর-৪ এমকে-১; ৯ এমএম স্টেন এসএমজি এমকে-২ ও সিএম ৯ এমএম স্টেন এ১; ভারতে তৈরি ৭.৬২ এমএম এসটিআর এল১ এ১ /১ এ ১ ও রাইফেল জি-৩; পাকিস্তানে তৈরি ৪৪ এমএম হ্যান্ড লঞ্চার এম-৫৭; যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপানে তৈরি পিস্তল ও রিভলবার ৭০০ এবং জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ভারতে তৈরি এলএমজি এইচকে ১১ এ১ সিএএল ৭.৬২*৫১।
আট শ্রেণি মিলিয়ে অস্ত্রের মোট সংখ্যা ২৭ হাজার ৬৬২। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪ হাজার ৪৫৪টি হচ্ছে ০.৩০৩ রাইফেল নম্বর-৪ এমকে-১। আর সবচেয়ে কম ১১৫টি হচ্ছে ৪৪ এমএম হ্যান্ড লঞ্চার এম-৫৭। বিদ্যমান রপ্তানি নীতি ২০১৮-২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে নতুন, পুরোনো বা অচল—কোনো ধরনের অস্ত্র রপ্তানিরই সুযোগ নেই। পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সব সময় ‘অস্ত্র ছাড়া সবকিছু’ (এভরিথিং বাট নট আর্মস) নীতি অনুসরণ করে আসছে।