ধর্ষণের রোধে এবার কঠোর হচ্ছে পাকিস্তানের আইন। রাসায়নিক প্রয়োগে ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ (কেমিক্যাল কাস্ট্রেশন) অকেজো করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্তে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পাক সংবাদমাধ্যম জিও টেলিভিশন ও ডন। সংবাদমাধ্যমের খবর, ধর্ষণের মামলাগুলিকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে বিচার করারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যাতে অপরাধীদের শাস্তি পেতে অযথা দেরি না হয়। তবে এ ব্যাপারে কোনো সরকারি ঘোষণা এখনো হয়নি।
ওই খসড়ায় পাকিস্তানে নারীদের নিরাপত্তায় জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম পুলিশে আরো বেশি সংখ্যায় মহিলা কর্মী নিয়োগ, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে ধর্ষণের মামলার বিচার এবং ধর্ষণের ঘটনার সাক্ষীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা।
পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম ডন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বৈঠকে বলেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ব্যাপারে যেন কোনো বিলম্ব না হয়। নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
ইমরান খান জানিয়েছেন, নতুন আইনে কোনো অস্বচ্ছতা থাকবে না। আইন কঠোর হবে। বিচার প্রক্রিয়াও হবে দ্রুততম সময়ে। ধর্ষণের শিকার নারী যাতে নির্ভয়ে অভিযোগ জানাতে পারেন পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে, সে দিকেও নজর রাখা হবে। ধর্ষণের শিকার নারীর জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে। পরিচয় গোপন রাখা হবে।
করোনাভাইরাসে বিশ্বে গত একদিনে ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ২ হাজার ১শ’র বেশি মানুষ করোনায় মারা গেছেন। একদিনে শনাক্ত হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। দেশটিতে এমুহূর্তে রেকর্ড ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফাইজার-বায়োন্টেকের ভ্যাকসিন এফডিএ’র অনুমোদন পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৬৪ লাখ ডোজ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ, যা আগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ইতালিতে একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন ৮শ ৫৩ জন। ফ্রান্স করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের চূড়া পার করায় আগামী সপ্তাহ থেকে বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। দেশটিতে একদিনে ৫শ ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্রাজিলে করোনার মধ্যেই স্কুলগুলো আংশিক খুলে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্রাজিলে একদিনে মারা গেছেন ৬শ ৩৮ জন।
গোটা ভারত আবারোও করোনার ভয়াল থাবার আওতায় রয়েছে। দৈনিক সংক্রমণ সামান্য কমলেও, স্বস্তি নেই দেশের করোনা গ্রাফে। নতুন সপ্তাহেও নতুন করে আক্রান্তের তুলনায় করোনাজয়ীর সংখ্যা খুবই কম। সোমবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৪ হাজার ৫৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া মৃত্যু হয়েছে ৫১১ জনের। একই সময়ে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ হাজার ২৪ জন।
নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভারতে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৯০ লাখ ছাড়িয়েছে। আপাতত তা ৯১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৬, যার মধ্যে এই মুহূর্তে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৮৬। করোনায় দেশে মোট মারা গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৮ জন। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন