রোকন সরকার
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেগুন চাষ করে বাজিমাত করেছেন স্মার্ট কৃষি উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান শাহীন। এশিয়ান টেলিভিশনের উলিপুর প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতা করেন তিনি। কৃষির প্রতি রয়েছে তার অন্যরকম ভালোবাসা।
চলতি বছর মাহমুদুল হাসান শাহীন তার নিজস্ব ৩৩ শতক জমিতে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বীজ সহায়তা প্রকল্পে বারি বেগুন-১২ ও পার্পল কিং চাষ করেছেন। উর্বর মাটি এবং সঠিক পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা বেগুনের গাছ গুলোতে ফলনও হয়েছে বাম্পার। প্রতিটি গাছেই ৮ থেকে ১০টি করে বেগুন ধরে মাটি পর্যন্ত ঝুলে রয়েছে। তার চাষকৃত এসব সাদা বেগুন দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। প্রতিটি বেগুনের ওজন হাফকেজি হতে প্রায় ৬শ গ্রাম। এ বেগুনের বাজারে ব্যাপক চাহিদা, দামও ভালো।
ওই এলাকার কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মাহমুদুল হাসান শাহীন সাংবাদিকতা করলেও প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা তার নিজস্ব আবাদি জমিতে কোমর বেধে কাজ করেন।
মাহমুদুল হাসান শাহীন বলেন, কোনো জমি যেন পতিত না থাকে এ লক্ষে কৃষি নিয়ে আমার কাজ করা। আমার আবাদকৃত বেগুনের ফলন দেখে অনেকেই উৎসাহ যোগাচ্ছে। কেউবা আবার নিজে চাষ করার জন্য পরামর্শ নিচ্ছে। আমার ৩৩ শতক জমিতে বারি বেগুন-১২ পাশাপাশি কিছু পার্পল কিং বেগুনও আবাদ করেছি।
বেগুন আবাদে এ যাবত শ্রমিক, রোপণ ও সারসহ অন্যান্য খরচ পড়েছে, প্রায় ২০ হাজার টাকা। বাজারে চাহিদা থাকায় অর্ধেকেরও বেশি বেগুন তুলে প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আবারও সমপরিমাণ টাকার বেগুন বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি বলেন, আগামীতে বারি বেগুন-১২ পাশাপাশি লাভজনক আরও নতুন কিছু চাষাবাদ করার ইচ্ছে আছে।
ধরনীবাড়ী ব্লক এ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, মাহমুদুল হাসান শাহিনের বেগুনের আবাদ দেখে স্থানীয় কৃষক‘রা আগ্রহী হয়েছেন। আগ্রহী কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। তারাও আগামী মৌসুমে এ জাতের বেগুন চাষ করার প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। তার মতো অন্যেরা এগিয়ে এলে গ্রামের কোন জমি পতিত থাকবে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন জানান, বেগুন চাষ লাভজনক। এতে পোকার আক্রমণ কম। উপজেলায় এ মৌসুমে শাক-সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৩০ হেক্টর থাকলেও অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ৫০ হেক্টর।
ডিসিএন বাংলা/জা.নি.