শেখ নাজমুল হাসান মিঠু
ডিসিএন বাংলা টেলিভিশন
তালা,সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
জামাত, বি এন.পির নাশকতা মামলার আসামীর তদবীর কারক ও পৃষ্ঠপোশক আ”লীগ নেতা রফিকুল পুলিশ হেপাজতে থেকে মুক্তি পেয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
এর আগে রবিবার(২৯জানুযারি) সকালে তালা উপজেলার কুমিরা এলাকার মেল্লেকবাড়ী নামক স্থান থেকে তাকে আটক করে। পরে উপজেলা আ”লীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম ও সম্পাদক ঘোষ সনৎ কুমার থানা পুলিশের কাছ থেকে মুচলেকা জিম্মায় আটকের ৪ঘন্টাপর ছাড়িয়ে নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিরা ইউ.পি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম উপজেলার রাঢ়িপাড়া গ্রামের মৃত শহিদুল ইসলাম মোড়লের ছেলে ও কুমিরা ইউনিয়ন আ”লীগের সাধারন সম্পাদক।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছরের২৩ জানুয়ারী সকালে নাশকতা মামলার আসামীদের জামিন করানোর জন্য আদালতে হাজির হন রফিকুল ইসলাম। ওই সময় একজন উৎসুক ব্যক্তি ৩০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও করেন। পরিবর্তে সেটি স্থানীয় পত্রিকায় সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় তোলে। ২০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে আদালতে আসামীদের সাথে গভীর সখত্যা দেখা যায় রফিকুলের। মামলার সুত্রে জানা যায়, গত ৭ ডিসেম্বর রাতে পাটকেলঘাটা থানার এস আই আমির হোসেন বাদী হয়ে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা ৩৫/৪০ জনকে আসামী করে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা সকলে জামায়াত ও বিএনপি’র সক্রিয় নেতাকর্মী বলে সুত্রে জানা যায়।এদিকে ঘটনার দিন আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিতে হাফিজুর সরদার (৩০), মালেক সরদার (৫৫), সেলিম হোসেন (৪০), মাও: সাইফুদ্দীন (৪৮), আজিজুল সরদার (৪৫), আব্দুল হাই, মাও: (৪৫), ইদ্রিস আলী মোড়ল (৪৫), জাকির মাও: (৪২) ও আব্দুর রাকিব (৪৮) ওই দিন আদালতে সহযোগী হিসাবে রফিকুল ইসলামকে দেখা যায়। কুমিরা ইউনিয়ন আ”লীগের দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ক্ষমতা পাওয়ার পরে রফিকুল বেপরয়া হয়ে ওঠেন। বর্তমানে কুমিরা এলাকায় জমি দখল সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকার লোকজনকে জিম্মী করে টাকা আদায় করে বেড়ায় । তার এই অপকর্মের প্রতিবাদ করে তাকে বিভিন্ন সময় লাঞ্ছিত হতে হয়েছে । একসময় তার টালির ঘর ছিল বর্তমানে সে তিন তালা বাড়ির মালিক।তার এই অপকর্ম বন্ধ হয় বহিষ্কার দাবীতে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
কুমিরা ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারন সম্পাদক নাজমুল হাসান মিঠু বলেন,কুমিরা ইউনিয়ন আ”লীগের সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দলীয় পদে থেকে জামাত বিএনপির দোশর হয়ে কাজ করেন। এছাড়া তাদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা সহ নিয়োগ বানিজ্য করে গড়ে তুলেছেন বিলাশ বহুল বাড়ি। এসকল অবৈধ টাকা দিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কুমিরা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম বলেন, রফিকুল ইসলাম সাধারন সম্পাদক হওয়ার পরে জামাত বিএনপির দোসর হয়ে দলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যে অবৈধ টাকার গন্ধ সেদিকে ছুটে যান রফিকুল। টাকার জন্য এমন কোন অপকর্ম নেই করেন না রফিকুল। এছাড়া তার রিরুদ্ধে দলীয় কার্যলয়ের সংষ্কার বরাদ্দ আত্মসাৎ সহ নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অস্বীকার করে রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি কখনও নাশকতা মামলার আসামীদের পক্ষে নন । তবে সেদিন ব্যক্তিগত কাজে এ্যাড. তপন এর সাথে দেখা করতে গেলে আসামীদের সাথে দেখা হয়েছিল। তাকে নিয়ে মিথ্যাচার সহ রাজনৈতিক ভাবে হেয়পতিপন্ন করার ষড়যন্ত্র চলছে।
আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন আমাকে বিভিন্ন বিষয়ে জানাশোনার জন্য তাকে ডেকেছিল তবে তাকে আটক করে রাখা হয়নি বলে দাবী করেন। বাড়ি ও জমির বিষয়ে প্রস্ন ছুড়ে দিলে তিনি কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হন নি। আটকের বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্তকর্মকর্তা (ওসি)কাঞ্চন কুমার রায়ের সাথে কথা বললে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ডিসিএন বাংলা/সা.আ.নি.