হাসান কাজলঃ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক সহ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জমি অধিগ্রহণে অনিয়ম,নিয়োগ ও বদলি বানিজ্য, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচার, অগ্নিনির্বাপণের গাড়ি ও ইকুইপমেন্ট ক্রয়ে অনিয়ম সহ হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি, আদালতে মামলা, গ্রেফতারী পরোয়ানা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমশনে অভিযোগ থাকার পরও এসকল কর্মকর্তাগণ বহাল তবিয়তে চাকুরী করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফায়ার একাডেমির জমি ক্রয়ের বিষয়ে সরকারি ভাবে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক, ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ১৪০ একর কম মূল্যে ভালো জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেন। গ্রহণ যোগ্য প্রস্তাবটি আমলে না নিয়ে সাবেক মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন এর নিজ বাড়ির কাছে ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে। যে সব জমির বেশির ভাগ তার নিজের ও আত্মীয় স্বজনের।জমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে ২০০ শত কোটি টাকার দুর্নীতি করেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। এছাড়াও চলমান প্রকল্প সমুহ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা, নিয়োগ ও বদলী বানিজ্যে ৮ শত কোটি টাকা সহ জানা আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়।
জমি ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি প্রসঙ্গে জানা গেছে, এ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার সুবিধা সুবিধা জনক স্থানে প্রকল্পটি স্থাপনের মৌখিক নির্দেশ দেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। সেই আলোকে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সাংসদ ৫০ কোটি টাকায় ১৪০ একর জমি অধিগ্রহণের একটি প্রস্তাব প্রেরণ করে। সেই প্রস্তাবে আলোকপাত না করেই মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার নিজ বাড়ির কাছে ২৫০ কোটি টাকায় ১০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে মহাপরিচালক সহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে। এখান থেকে ২০০কোটি টাকা, এছাড়া নিয়োগ ও বদলী বানিজ্যের মাধ্যমে কয়েক শত কোটি টাকা, চলমান বিভিন প্রকল্প থেকে কমিশন বানিজ্য, অগ্নি নির্বাপনের গাড়ি ও ইকুইপমেন্ট ক্রয়ে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আনিস মাহমুদ ও মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে চাকরি প্রদানের নামে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন এক ভুক্তভোগী নারী। পুলক কুমার গোস্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসব দুর্নীতি করে সে পাবনা শহরে ২ বিঘা জমি, মিরপুরে ৬ তলা বাড়ি, শেয়ার মার্কেটে ১ কোটি টাকা বিনিয়োগ, ভারতের কোলকাতা শহরে ২টি বাড়ি সহ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে টাকা পাচার করে। নিয়োগ ও বদলী শাখার শাহজাহান ঢাকার বসিলায় ৬ তলা বাড়ি, যশোরে ৩ তলা ডুপ্লেক্স ভবন, ১০ একর কৃষি জমি, ৫কোটি বিনিয়োগে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গরুর খামার করেছে। আরেক কর্মকর্তা খান খলিলুর রহমান এর নামে ১০৮৩ খিলবাড়িরটেক রোড,ভাটারা ঢাকায় ৬ তলা বাড়ি, সাভার নিউমার্কেটে ২টি দোকান, মিরপুরে ৬ তলা বাড়ি, বসুন্ধরা আই ব্লকে ৬ তলা বাড়ি, শেয়ার মার্কেটে ২ কোটি টাকা বিনিয়োগ, স্বপ্নধারা হাউজিংএ ২ টি ১০ কাঠার প্লট,মাওয়ায় ৫ একর জমি, রূপশা খুলনায় ১০ একর কৃষি জমি, ঢাকার ফকিরাপুলে ৩ টি দোকান, ব্যাংকে নামে বেনামে কোটি কোটি টাকা রয়েছে। এমনি করে সাবেক ডিজি মামুন মাহমুদ আনিস মাহমুদ সহ কর্মকর্তারদের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ রয়েছে।
ডিসিএন বাংলা/আ.নি.