এখলাছ উদ্দীন রিয়াদ
ডিসিএন বাংলা টেলিভিশন
স্টাফ রির্পোটারঃ
নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় আদর্শ নগর বাদাম তলায় বায়তুল মামুর জামেসজিদ সংলগ্ন নোয়াখালী মজিবুল হকের দুতলা বিশিষ্ট বাড়ির নিচতলা সন্ত্রাসী কায়দায় দখল করে আছে একটি পরিবার।
পারিবারিকসূত্রে জানাযায়, আদর্শ নগর বাদাম তলায় ১৯৯০ সালে মোঃ মজিবুল হক নিজের টাকায় ১২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ক্রয়কৃত জমির সাড়ে সাত শতাংশ (৭.৫০) নিজের নামে এবং সাড়ে চার শতাংশ (৪.৫০) জমি তাহার (মজিবুল হকের) পিতা লাল মিয়ার নামে সাফকাওলা করেন।
অতপর প্রদত্ত জমিতে মোঃ মজিবুল হকের কষ্টে অর্জিত টাকায় সাড়ে সাত শতাংশ (৭.৫০) জমির উপর দলিলে উল্লেখিত দিক (পূর্ব/পশ্চিম/উত্তর/দক্ষিণ) নির্দেশনা মতে দক্ষিণ পশ্চিম কর্ণারে তার স্ত্রীর সহযোগীতায় তিন তলা ফান্ডেশন দিয়ে দুতলা বাড়ি সমপন্ন করেন।
বাকি সাড়ে চার শতাংশ (৪.৫০) জমির ৩.৬৮ শতাংশের মধ্যে দলিলের নির্দেশনা মোতাবেক মজিবুল হকের বড় ভাই নূরুল হোসেন (গং) একত্রিত ভাবে টিনের ঘর তৈর করেন। পরবর্তীতে টিনের ঘর ভেঙ্গে টিনশেট (হাফ বিল্ডিং) ঘর তৈরি করার জন্য কাজ ধরেন। এর প্রেক্ষিতে সাময়িক সময়ের জন্য নিচ তলায় ভাড়া থেকে কাজ করতে তাদের সুবিধা হবে মনে করে ৭,০০০/= (সাত হাজার) টাকায় ভাড়া বাবদ মৌখিক ভাবে চূড়ান্ত করে আানুমানিক ২০১৫ সালের প্রথমের দিকে বাসায় উঠেন।
পরে বাসার কাজ ধীর গতিতে কিছু সমপন্ন করে কাজ বন্ধ করে রাখেন মজিবুল হকের বড় ভাই নূরুল হোসেন (গং)। এতে করে সাময়িক সময়ের জন্য মজিবুল হকের নিচ তলা বাসায় উঠেলেও এখন পযর্ন্ত জোর জব্বর করে বসবাস করছেন। ২০১৫ সাল থেকে অধ্যবধি ২০২২ সালের অক্টোবর মাসের কোন ভাড়া পরিশোধ করেননি। এমনকি ভাড়া চাইলে অশীল ভাষায় গালিগালাজ সহ ভয়ভীতি ও হুমকী দেখায় এবং ঝগড়ার সৃষ্টি করে।
এমতাবস্তায় গত শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্ভর) আমার মেয়ের স্কুল ০৯ দিন বন্ধ থাকায় স্বপরিবারসহ একই দিনে গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে বেড়াতে যাই। পরের দিন সকাল ৬.০০ টায় (১লা অক্টোবর) ভাড়াটিয়ারা আমাকে ফোনে জানায় আমার বাসায় তালা ভেঙ্গে চুড়ি হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে সাথে সাথে আমি নোয়াখালী থেকে নারায়নগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হই এবং বাসায় আাসি দুপুর ১ টায়। এসে দেখি আমার ঘরের (দু- তালায়) দরজার তালার হ্যার্ন্ডেল ভেঙ্গে মূল ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রত্যেক রুমের তালার হ্যান্ডেল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে সন্ত্রাসী স্টাইলের চোর সদস্যরা।
এ সময় আলমারিতে রাখা বিভিন্ন দলিল, চলমান মামলার রায়ের কপি, ব্যাংকের চেক বই, আমার স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাটির্ফিকেট এর মূল কপি, বিভিন্ন কাগজপত্র, নগদ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা, সাত ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার যার আনুমানিক মূল্য ৫,৬০,০০০/= (পাঁচ লক্ষ ষাট হাজার) টাকা, একটি স্যামসাং কোম্পানির ল্যাপটপ যাহার আনুমানিক মূল্য ৭০,০০০ (সত্তর) হাজার টাকা, ১ টি আইফোন ও ২টি এন্ড্রয়েড অপো মোবাইল এবং ১ টি নোকিয়া বাটন সেট ও বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র চুড়ি হয়েছে।
উল্লেখ্য আমার বাসায় প্রথমে ডুকতেই মেইন কেচি গেইট ও উপরের (চাঁদ) লোহার গেইটে তালা লাগানো।
মজিবুল হকের পরিবার আরো জানান, আমাদের এই বাড়িতে যারা নিচ তলায় থাকেন তাদের সাথে মামলা মোকদ্দমা চলছে। তারা সাময়িক সময়ের জন্য আমাদের বাসায় এসে র্দীঘ দিন যাবৎ বেআইনি ভাবে বসবাস করছে। বরং মাসিক ভাড়া না দিয়ে উল্টো আমাদের উপর বিভিন্ন ধরনের চাপ প্রয়োগ করছে। গুম করে দিবে, নানান ধরনের হুমকি- ধুমকি দিয়ে আসছে। এমনকি প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে আসছে। এদের সাথে মামলা চলছে।
উদ্দেশ্যে মূলক ভাবে আমাদের ক্ষতি গ্রস্থ করার জন্য এই চুরি সংগঠিত করেছে জোড় পূর্বক বসবাসরত জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর (৫৩), নূরুল হোসেন (৭৫), মাহাবুব উদ্দিন (তাসরিফ) (৩৫), বাবুল হোসেন (৫৭), মোঃ হারুন অর রশিদ (৬৫), শরিফ উদ্দিন (৩২), রেজিয়া বেগম (৭০) গং। কারণ বাইরে থেকে চোর আসলে হয়তো কেচি গেইটের তালা ভাঙ্গা থাকতো অথবা ছাঁদের গেইটের তালা ভাঙ্গা থাকতো। দুটো গেইট পূর্বের ন্যায় রয়েছে।
তাছাড়া উপরোক্ত ব্যাক্তিরা আমার নামে আমার বাড়ি নিয়ে মিথ্যে হয়রানি মূলক একটি মামলা বিজ্ঞ যুগ্ন জেলা জজ দেওয়ানী আদালতে দায়ের করেন । মামলা নং- ৫২২/১৬ । পরর্বতীতে বিজ্ঞ আদালত গত ২৪/০২/২০২২ ইং তারিখে তাদের করা মামলার রায় আমার পক্ষে ঘোসনা করেন।
এতে উক্ত ব্যাক্তিরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে দেওয়ানী মামলাটি নিয়ে আবারও আপিল করে। আপিল নং-১১২/২২ এবং আমাকে বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি দেখায় । সাজানো এই মিথ্যে মামলার রায় আমার পক্ষে চলে আসায় প্রচন্ড মাত্রায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বাসায় র্দুঘটনা ঘঠানোর জন্য চেষ্টা করে নিচের ফ্ল্যাটে বসবাসকারী ব্যাক্তিরা। এরই ধারাবাহিকতায় আমার বাসায় সন্ত্রাসী কায়দায় চুরি সংগঠিত করে উপরোক্ত ব্যাক্তিগন।
স্থানীয়সূত্রে জানাযায়, মজিবুল হকের দুতলা বিশিষ্ট বাড়ির নিচতলায় যারা ভাড়া থাকেন, তারা র্দীঘ দিন যাবৎ থাকলেও কোন ভাড়া পরিশোধ করেন না। নানান ধরনের গুম হুমকি সহ অনবরত ঝগড়া করতে থাকে বাড়িওয়ালার পরিবারের সাথে। ভুক্তভোগী মজিবুল হকের পরিবার সৃষ্ট সমস্যা সমাধান এবং ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ভাড়া পরিশোধসহ চুড়িকৃত মালমাল ফেরত বিষয়ে প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা থানায় ভুক্তভোগী মজিবুল হকের মেয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে। তাছাড়া এলাকার জনপ্রতিনিধি চেয়ারম্যান ও মেম্বার এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন।
ডিসিএন বাংলা/না.আ.নি.