বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কাজ করবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। আগামী অক্টোবরে বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করবে এফএও। সেখানে তারা অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও দাতা সংস্থাকে বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে ও কৃষিখাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর করতে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করবে।
আজ সকালে সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে বৈঠকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কিউ দোংয়ু এসব কথা জানান। এ ছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কৃষি খাতের উন্নয়নে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ দরকার। আমরা বারিড পাইপ (ভূগর্ভস্থ লাইন) দিয়ে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন করতে চাই। আমরা উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলে নতুন উদ্ভাবিত ফসলের জাতের সম্প্রসারণ করতে যাচ্ছি। পাহাড়ি এলাকায় উচ্চমূল্যের ফসলের চাষ আরও বাড়াতে চাই। এ ছাড়া কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত করে ভ্যালু অ্যাড ও রফতানি করতে চাই। এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ প্রয়োজন।’ সাক্ষাৎশেষে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকায় এফএওর সম্মেলন চলছে, এ উপলক্ষ্যে এফএওর ডিজি বাংলাদেশে এসেছেন। এফএও কৃষি উন্নয়নে আমাদের সহযোগিতা করে থাকে। তারা আমাদের কারিগরি সহায়তা দেয়। ডোনারদের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। কীটনাশকের ক্ষতিকর দিকগুলো যাতে কমাতে পারি, সে বিষয়ে বৈশ্বিক যে নিয়ম, তা তৈরি করে এফএও।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখন দেশে ৫৭ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন করছি। বাংলাদেশের আবহাওয়া ভুট্টার জন্য খুবই ভালো। বাংলাদেশে ভুট্টা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এফএও বড় ভূমিকা রেখেছে। আমি মনে করি ভবিষ্যতে এফএও-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।’ ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে দ্রব্যমূল্যের ওপর পড়বে কি না–এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব দেশে দ্রব্যমূল্যের ওপর কিছুটা পড়েছে। তবে আমাদের কাছে এখন খাদ্যশস্যের সর্বোচ্চ মজুত আছে। ফসলের উৎপাদনও ভালো। এ ছাড়া এপ্রিলের ১৫ তারিখ থেকেই নতুন চাল আসবে। কাজেই, সব মিলিয়ে আমাদের কোনো বড় সমস্যা হবে না। কোনো খাদ্যসংকট, হাহাকার–এ রকম কিছু হবে না।’ বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. রুহুল আমিন তালুকদার, এফএও-এর সহকারী মহাপরিচালক জং-জিন কিম, বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট সিম্পসনসহ এফএও-এর ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।
ডিসিএন বাংলা/জা.নি.