৯ই জানুয়ারি থেকে গেল একমাসে আক্রান্তদের মধ্যে ৮২ শতাংশ করনার নতুন ধরন ওমিক্রনে আর বাকি ১৮ ভাগ ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতালটিতে কোভিড-১৯ এর জিনোম সিকোয়েন্সিং গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে একথা বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য।
গত ৯ই জানুয়ারি থেকে ৯ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্সিং করা হয়। এরপর ভাইরসের জীবন রহস্য উন্মোচন বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এসময় বিএসএমএমইউ’র উপাচার্য বলেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট দ্রতু সংক্রমণ করে। তবে এই ভ্যারিয়েন্টে মৃত্যুহার কম। গত একমাসে করোনায় আক্রান্ত হয়ে যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই ডেল্টায় আক্রান্ত ছিলেন বাকি বিশ শতাংশ ওমিক্রনে আক্রান্ত। তবে ভ্যাকসিনে মৃত্যুর হার কমে বলেও জানিয়েছেন উপাচার্য।
এছাড়া, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী, বেশি বয়সী এবং যারা ভ্যাকসিন নেয়নি তাদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। তাই সবাইকে ভ্যাক্সিন নেয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ। দেশে বেশ কিছুদিন ধরেই করোনা শনাক্ত এবং আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু উভয়ের সংখ্যা বাড়ছেই। চার সপ্তাহ ধরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। ১০ থেকে ১৬ই জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছিল ৪২ জনের। পরের সপ্তাহে অর্থাৎ ১৭ থেকে ২৩শে জানুয়ারি পর্যন্ত করোনায় মারা যান ৭৯ জন। মৃত্যুর এ হার তার আগের সপ্তাহের চেয়ে ৮৮ শতাংশ বেশি। আর ২৪ থেকে ৩০শে জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়। এ সংখ্যাও তার আগের সপ্তাহের চেয়ে ৭৭ শতাংশ বেশি। এরপর ৩১শে জানুয়ারি থেকে ৬ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ২২৬ জন।
এদিকে, গতকাল বুধবার দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৩৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্ত্য অধিদপ্তর। এদিন ৮৭১টি ল্যাবে ৪২ হাজার ৫৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৮ হাজার ১৬ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়। বুধবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৭০৩ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৮৭ হাজার ২৭১ জনে। এছাড়া, সারা বিশ্বেই করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের প্রভাবে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৩৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮০১ জনে। এছাড়া মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫৫৩ জনে। আর আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়েছেন ৩২ কোটি ৩৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮২৫ জন।
ডিসিএন বাংলা/জা.ক.নি.