ফিলিপিন্সে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রাইয়ের আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৮ জনে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হাজারও মানুষ। ঝড়ের তাণ্ডবে বেশ কিছু এলাকায় ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। বন্যার্তদের সহায়তায় মাঠে নেমেছে বিভিন্ন সংস্থা।
দূর থেকে দেখলে চোখে পড়বে কেবলই ধ্বংসস্তূপ। ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড সিয়ারগাও দ্বীপ। গত বৃহস্পতিবার (১৬ ডিসেম্বর) ফিলিপিন্সের পর্যটন নির্ভর এই দ্বীপটিতে তাণ্ডব চালায় শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় রাই।
ঝড়ে অঞ্চলটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে গোটা দ্বীপ। ফিলিপিন্সের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা জানায়, সিয়ারগাও ছাড়াও ঝড়ের প্রভাব পড়েছে আশপাশের কয়েকটি প্রদেশে।
নিখোঁজদের উদ্ধারে অব্যাহত রয়েছে অভিযান। কাজ করছে সেনাবাহিনী, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ফায়ার সার্ভিসের প্রায় কয়েক হাজার সদস্য। রোববারও বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো অনেকে নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে এখনো ঝড়ের ভয়াবহতা ভুলতে পারছেন না স্থানীয়রা। ভূমিধ্বস ও বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। ঝড়ের কারণে সৃষ্ট বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন এলাকা এখনো তলিয়ে আছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে উদ্বেগ স্থানীয় মানুষের। বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে বেশ কিছু এলাকায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় মাঠে নেমেছে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা। ঝড়ের প্রভাবে যারা সবকিছু হারিয়েছেন তাদের সাহায্য করছে সংস্থা দুটি। এর আগে ক্ষতিগ্রস্তদের পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে।
তিনি বলেন, মহামারি করোনার জন্য একটা বাজেট রাখা আছে। তবে, ঝড়ের জন্য আমরা আরও অর্থ সংগ্রহ করছি, যা ক্ষতিগ্রস্তদের বিতরণ করা হবে।
বর্তমানে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে ভিয়েতনামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
ডিসিএন বাংলা/আ.নি.ফি.