
ঝালকাঠিতে আমন ধান কাটা শুরু না হলেও ১২ হাজার ৫০০ হেক্টরে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে তারা বিএডিসির বীজ বিক্রয় কেন্দ্র ও ডিলারদের কাছ থেকে বিভিন্ন জাতের বীজ সংগ্রহ করে বীজতলা করতে মাঠে নেমেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ৪টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলা ও নলছিটি উপজেলা বোরো প্রধান। এই দুই উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার কারণে আমন ধানের আবাদ করা যায় না। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ও বিনয়কাঠি এবং নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ও মগড় ইউনিয়নের ৩০ হাজার একরজুড়ে জলাবদ্ধতা থাকে। এই সকল ইউনিয়নের জলাবদ্ধ থাকা গ্রামগুলোতে কৃষকরা একমাত্র বোরো ধান ফসলের উপর নির্ভরশীল থাকে। এসব গ্রামগুলো মধ্যে থাকা খাল এবং সংশ্লিষ্ট নদীর অংশ ভরাট হওয়ায় পানি ওঠানামা করতে না পারায় পুরো বর্ষাকাল জুড়েই প্রায় ৫ মাস এলাকাগুলো ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে থাকে।
ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. ফজলুল হক জানান, শীতের প্রবাহ শুরু হওয়ার সাথে-সাথে জলাবদ্ধ জমি থেকে পানি নেমে যাওয়ার সাথে-সাথে আগাছা পরিষ্কার করে এই গ্রামগুলোর কৃষকেরা আগাম বোরো আবাদ নেমে যান।
তিনি বলেন, এ বছর ১২ হাজার ৫০০ হেক্টরে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৮০০ হেক্টরে হাইব্রিড ধানের আবাদ করা হবে। জেলা সদরের বিএডিসি বীজ কেন্দ্র থেকে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৪ টন বীজ ধান বিক্রি শেষ হয়েছে এবং জেলার ২৫ জন ডিলারের মাধ্যমে ৯৭ টন বরাদ্দকৃত বীজ ধান বিক্রি হচ্ছে।