
ডিসিএন বাংলা নিউজ ডেক্সঃ
আবাসিক হোটেলে মেয়ের সামনে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যাবস্থা গ্রহণেরও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) এক আদেশে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ওই পুলিশের বিরুদ্ধে গত বুধবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে নগরীর সুন্দরবন হোটেলে ওই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই রাতেই অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করে পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে বাগেরহাট জেলার মোংলা থেকে শিশুকন্যা ও এক ভাগ্নেকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য খুলনায় আসেন ওই নারী। তবে সিরিয়াল না পাওয়ায় রাতে থাকার জন্য নগরীর সুন্দরবন হোটেলে মেয়েকে নিয়ে ওই নারী থাকেন। রাত সোয়া ২টার দিকে হোটেল বয়কে নিয়ে পুলিশ পরিচয়ে রুমে প্রবেশ করেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। এরপর হুমকি-ধামকি দিয়ে হোটেল বয়কে রুম থেকে তাড়িয়ে দেন। রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ভয়-ভীতি দিয়ে জোর করে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন জাহাঙ্গীর। এসময় ওই নারী ও তার মেয়ের চিৎকারে হোটেল বয় ও অন্যরা এগিয়ে আসলে জাহাঙ্গীর পালিয়ে যায়। পরে ভাগ্নে সবশুনে হোটেল মালিককে বিষয়টি জানালে সে এসে হোটেলের মেইন গেট তালাবদ্ধ করে রাখে এবং পুলিশকে সংবাদ দেয়। পুলিশ এসে ওই নারীকে উদ্ধার করে এবং আসামিকে আটক করে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নিয়মিত মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিশনাল ডেপুটি পুলিশ কমিশনার মো. শাহজান শেখ বলেন, বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পুলিশকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই নারীকে বুধবার (৮ ডিসেম্বর) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) ওসিসি থেকে ভুক্তভোগীকে রিলিজ দেওয়া হয়েছে।