
ডিসিএন বাংলা নিউজ ডেক্সঃ
শাড়ি তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছেন না টাঙ্গাইলের তাঁতিরা। এরই মধ্যে পুঁজি হারিয়ে অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ মালিকদের। এদিকে ব্যবসায়ী সমিতি নেতার দাবি, সরকারি সহায়তা না পেলে হারিয়ে যাবে শিল্প।
নানা প্রতিকূলতার কারণে লোকসান যেন পিছুই ছাড়ছে না টাঙ্গাইলের তাঁত ব্যবসায়ীদের। করোনার কারণে গত বছর হাটবাজার দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় লাখ লাখ টাকার উৎপাদিত শাড়ি বিক্রি করতে পারেননি তারা। সে ধকল কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হন তারা। পুঁজি হারিয়ে পথে বসেন অনেকে। আবারও ধারদেনা করে কাজ শুরু করলেও সুতা ও শাড়ি তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন না তারা।
এ বিষয়ে তাঁতি ও ব্যবসায়ীরা বলেছেন, লোকসানে রয়েছি। এখন ব্যবসা বাণিজ্য নেই। সুতার দাম বেশি। তাই কাপড়ের দাম বেশি। ক্রেতা এসে ঘুরে যায়। হাটে যে কাপড় নিয়ে আসি তা বিক্রি হয় না। অন্যসব জিনিসের দাম বেশি, কিন্তু কাপড়ের দাম কম বলে তারা জানিয়েছেন।
এদিকে দূর-দূরান্তের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি শাড়ির দাম বেড়ছে। তাই বিক্রি কমে যাওয়ায় লাভবান হতে পারছেন না তারা।
তাঁত শাড়ির দাম বৃদ্ধি নিয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলেছেন, যে পণ্য ৩০০ দিয়ে কিনেছি, সেটি ৪৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। সব পণ্যের দামই বেশি এখন। আমাদের এখন পোষাচ্ছে না। কারণ ক্রেতাদের বুঝাতে কষ্ট হচ্ছে আমাদের।
দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতিরা স্বল্প সুদে সরকারি সহায়তা না পেলে অচিরেই এই তাঁতশিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।
এ বিষয়ে করটিয়া পাইকারি শাড়ি কাপড়ের হাট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. জিন্নাহ মিয়া বলেছেন, অনেক তাঁত বন্ধ হয়ে গেছে। সুতার দাম বৃদ্ধির কারণে তাঁতিদের কাপড়ের দাম বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। এই কাপড়ের দাম বৃদ্ধির কারণেই অনেক ক্রেতা কমে গেছে। যেখানে অনেক ক্রেতা ছিল করটিয়া হাটে, এখন অনেক ক্রেতা আসে না।
টাঙ্গাইলের করটিয়া হাটে প্রায় ৫ হাজার শাড়ির পাইকারি দোকান রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি হাটে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার শাড়ি বিক্রি হয়।