নিজস্ব প্রতিবেদন ডিসিএন বাংলা টিভি,
হাসান কাজল :
নানামূখি অবস্থান জনমনে তৈরি হচ্ছে শঙ্কা। অন্তরবর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন,ঘোষিত সময়ে নির্বাচন দিতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্নসহ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু মাঠ পর্য়য়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে বিভিন্ন ইস্যুতে বাড়ছে দুরত্ব ।দলীয় প্রতিক, পিআর পদ্ধতি ,জুলাই সনদ,নির্বাচনের আগে গণভোট, সংবিধান সংশোধন সহ শেকিছু জটিল বিষয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মিত্রশক্তিতে মতভেদ বাড়ছে। এসব বিষয় আলোচনার টেবিল পেরিয়ে রাজপথের আন্দোলনসহ সভা,সেমিনার ,বক্তব্য –বিবৃতিতে তিক্ততা বাড়াচ্ছে রাজনীতির মাঠে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন,আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে চাইলে নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই সাংবাদিকদের সহযোগিতা নিতে হবে। ১১ অক্টোবর দুপুরে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের জন্য ইসির বিধিমালার বিভিন্ন দিক নিয়ে অংশীজনের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভায় এই কথা জানান তিনি।শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে, আর কোন দল করবে না, তা দেখার দায়িত্ব সরকারের নয়।অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা একটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন পেতে চাই, সেটা বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার। আমরা মানুষকে বলতে চাই, বাংলাদেশে একটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার সমাজের সূচনা হবে একটা ভালো নির্বাচন দিয়ে। এ নির্বাচনে কোন পার্টি এলো, না এলো ওটা আমাদের দেখার ব্যাপার না, সেটা নির্বাচন কমিশন দেখবে আর পলিটিক্যাল চিন্তাভাবনা করেন তারা। তবে আমরা বদ্ধপরিকর একটা ভালো নির্বাচন দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চাই।’সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করব, যেইভাবে যা সহায়তা চাইবে সেভাবেই সরকারকে সহায়তা করতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাচনের প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে অযথা কেন টানাটানি কেন? এমনপ্রশ্ন করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘ভাই আমরা তো তোমাদের মার্কাতে বাধা দিইনি। তোমাদেরকে তোমাদের মার্কা দেবে নির্বাচন কমিশন, সিদ্ধান্ত নিবে তারা।’১৯৯০–এর স্বৈরাচারবিরোধী গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। ১০ অক্টোবর রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু কিছু ব্যক্তি বা দল, ধমক দিচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে যে অমুক মার্কা না দিলে আমরা নির্বাচনে যাব না বা ওমুকের মার্কা থাকতে পারবে না। আমরা এ কথা বলি নাই যে তোমাদেরকে মার্কা দেওয়া যাবে না। তাহলে অযথা বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে টানাটানি কেন।’ধানের শীষ অপ্রতিরোধ্য এবং এটিকে থামিয়ে রাখা যায় না উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গ্রামেগঞ্জে যেখানে যাবেন, সেখানে একটাই স্লোগান শুধু ধান লাগাও, ধান লাগাও—এটাই হচ্ছে প্রধান সমস্যা। শেখ হাসিনাকে দানব উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘মনস্টার শেখ হাসিনা এমনিতে দিল্লি পলাইয়া যায়নি, যেতে বাধ্য হয়েছে। কারণ, আমরা সে ভিত্তি তৈরি করেছি। দীর্ঘ ১৫ বছর লড়াই করে সংগ্রাম করে রক্ত দিয়ে আমরা সেই ভিত্তি অর্জন করেছি।’
তিনি বলেন,কয়েক দিন লাফালাফি করলে গণতন্ত্র হয় না ।‘গণতন্ত্র গড়তে হলে অনেক পরিশ্রম দরকার, ত্যাগ দরকার, জনগণের কাছে যাওয়া দরকার। বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য মানুষের কাছে যাওয়া পার্টি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেখছি আমলাতন্ত্রকে একটি দলের পকেটে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা আমরা কোনোভাবেই বরদাশত করব না। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সরকার চাই নির্বাচনের সময়। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
নির্বচনী প্রতীক বরাদ্ধ নিয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে বলা হয়,জাতীয় নাগরিক পার্টিকে হয় শাপলা প্রতীক দিতে হবে নয়তো ধান, সোনালি আঁশ বাদ দিতে হবে—এই শর্ত নির্বাচন কমিশনকে দিয়েছেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ৯অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেছেন তিনি। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, শাপলা প্রতীক ছাড়া এনসিপি নিবন্ধন নেবে না। তিনি বলেন, ‘শাপলা প্রতীক পেতে আইনি ও রাজনৈতিক কোনো বাধা দেখছি না। এর পরেও যদি শাপলা প্রতীক না দেওয়া হয়, তাহলে লড়াই চালিয়ে যাব। শাপলা ছাড়া এনসিপি নিবন্ধন নেবে না। শাপলা ছাড়া এনসিপি নিবন্ধন মানবে না।’
পিআর পদ্ধতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গতকাল বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরি বলেন,পিআর পদ্ধতির পক্ষে থাকা দলগুলোর সঙ্গে সব বিষয়ে ঐকমত্য কমিশন একমত হতে পারবে না। পিআরের বিষয়টি জনগণের ওপর ছেড়ে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।১১ অক্টোবর শনিবার দুপুরে রাজধানীর কসমস সেন্টারে আয়োজিত নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সেমিনারে এ মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, পিআর প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের দায়িত্ব জনগণ দলগুলোকে দেয়নি। দাবি না মানলেই আলোচনা অর্থহীন বলা হলে সেটি গণতন্ত্র নয়। একমত না হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে সংসদেই আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অন্যের মতের প্রতি সহনশীল হতে হবে। অন্যথায় আলোচনা করেও কোনো ফল পাওয়া যাবে না।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত করতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন জরুরি।বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ত্রুটিমুক্ত করতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন জরুরি। বিগত নির্বাচনে যে অনিয়মগুলো হয়েছে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে তা আর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। ১১ অক্টোবর সকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং কোনো কেন্দ্রে সামান্য সমস্যা বা অনিয়ম দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। ভোটের দিন মাঠপর্যায়ে আইন ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। ১১ অক্টোবর চট্টগ্রামে ‘নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জ নিরূপণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের কোন কোন উপদেষ্টা কেএকটি দলের সাথে আতাত করার ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়,উপদেষ্টাদের কেউ কেউ গোপনে একটি দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে তাদের ক্ষমতায় আনতে কাজ করছেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শনিবার (১১ অক্টোবর) সকালে খুলনার পাইকগাছা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ছাত্র-যুব সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি।
ডিসিএন বাংলা টিভি নিউজ ডেক্স/