
কক্সবাজার সদরের লিংকরোডে দুর্বৃত্তরা গুলি করে জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি জহিরুল ইসলাম সিকদার হত্যার এজাহারভুক্ত আসামি ছাত্র শিবিরের সাবেক নেতা আবু তাহের সিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ নিয়ে জহিরুল ইসলাম হত্যা মামলায় ছাত্র শিবিরের সাবেক দুই নেতা গ্রেপ্তার হলেন।
শনিবার (২৭ নভেম্বর) মধ্যরাতে ঢাকার তোপখানা রোডের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে।
গ্রেপ্তার আবু তাহের সিকদার ওরফে তাহের সিকদার (৪৮) ছাত্র শিবিরের কক্সবাজার জেলা শাখার সাবেক নেতা ও কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ‘ছাত্র শিবির মনোনীত প্যানেলের’ সাবেক সদস্য। তিনি পেশায় আইনজীবী এবং কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আবু তাহের সিকদার শ্রমিক লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম সিকদার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি।
গত ৫ নভেম্বর রাত সাড়ে ১০ টায় কক্সবাজার সদরের লিংকরোড স্টেশনে ঝিলংজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও তার ছোট ভাই কুদরত উল্লাহ সিকদারের ব্যক্তিগত অফিসে অবস্থান করছিলেন। তারা দুই ভাইসহ কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নির্বাচনী আলাপ করছিলেন। এসময় একদল দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেল যোগে এসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে এবং কুপিয়ে জখম করে। এতে ৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে। আহতদের মধ্যে কুদরত উল্লাহ’র অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওইদিন রাতে চিকিৎসকরা তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
গত ৬ নভেম্বর সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা জহিরুল ইসলামের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চিকিৎসকরা চমেকে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৭ নভেম্বর দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
কুদরত উল্লাহ গত ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ ছিল, ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লিয়াকত আলীর নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালিয়েছে।
এ ঘটনায় গত ৯ নভেম্বর হামলায় আহত কুদরত উল্লাহ সিকদার বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে ২১ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত ১১ নভেম্বর মধ্যরাতে কক্সবাজার শহরের নুর পাড়া থেকে শ্রমিক লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাবেক শিবির নেতা ও সাংবাদিক ইমাম খাইরকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছিল, ‘ইমাম খাইর শ্রমিক লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম সিকদার হত্যার পরিকল্পনা ও হত্যার মিশনে সরাসরি জড়িত ছিল।’
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, কক্সবাজার সদরে শ্রমিক লীগ নেতা জহিরুল ইসলাম সিকদারের চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনার পর থেকে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত ছিল। শনিবার মধ্যরাতে মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি ঢাকার তোপখানা রোডের আবাসিক একটি হোটেলে অবস্থান করছে খবরে পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। এতে হোটেল কক্ষে অবস্থানকালে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার তাহের সিকদার শ্রমিক নেতা জহিরুল ইসলাম হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত দুই নম্বর আসামি। ঘটনায় মামলা দায়েরের পর থেকে সে পলাতক ছিল।’
তিনি জানান, আসামিকে রোববার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা থেকে কক্সবাজার নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে। গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।