
পদ্মা সেতুতে জিডিপি বাড়বে ১.২৩ শতাংশ, ০.৮৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য কমাবে পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল করতে অনবদ্য ভূমিকা রাখবে পদ্মা সেতু। বছরে জিডিপি বাড়বে প্রায় দেড় শতাংশ হারে। এক শতাংশের মতো করে কমবে দরিদ্র মানুষ। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ জেলাকে সরাসরি যুক্ত করবে সেতুটি। গতি ফিরবে মংলা বন্দরের। আর এই সংযোগ বদলে দেবে পুরো দেশের শিল্পায়নের চিত্র।
কুয়াশার সাদায় ঢেকে আছে পুরো পদ্মা নদী। ফেরি চলাচল বন্ধ। বন্ধ এপার-ওপার যাওয়া আসার উপায়ও। ফেরিঘাটে এই অপেক্ষা শেষ হচ্ছে, আর মাত্র এক বছর। তখন পদ্মার উপর দিয়ে তুমুল গতিতে চলবে গাড়ি। গতি বাড়বে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৯ জেলার অর্থনীতিতেও। খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতুর সঙ্গে মংলা বন্দর এবং খান জাহান আলী বিমানবন্দরের একটা যোগাযোগ আছে। এতে করে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী হবে।
অর্থায়ন থেকে সরে আসা বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা বলছে, জনসংখ্যার পাঁচ ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ কমপক্ষে তিনকোটি মানুষ সরাসরি এই সেতুর মাধ্যমে উপকৃত হবে। প্রতিবছর দারিদ্র্য কমবে দশমিক ৮৪ শতাংশ হারে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে, পদ্মা সেতুতে ভর করে জিডিপিতে বাড়তি ১ দশমিক ২২ শতাংশ যোগ করবে বাংলাদেশ। আঞ্চলিক জিডিপি বাড়বে সাড়ে ৩ শতাংশ।
উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ ড. আবু ইউসুফ বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি না বৈষম্য কমাতেও পদ্মা সেতু বড় ভূমিকা পালন করবে। আমাদের জেলাভিত্তিক দারিদ্রের ডাটা আছে। সুওতরাং এখানে যেটা বলা হয়েছে যে দশমিক ৮৪ শতাংশ দারিদ্র্য কমবে আমার মনে হয় এর পরিমান আরও বাড়তে পারে। পদ্মা সেতু চালু হলে বন্ধ হবে ৫০ ভাগ ভর্তুকি দেয়া ফেরি সার্ভিস। অর্থাৎ টোলের শতভাগ টাকাই পাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার। বাড়বে সরকারের আয়ও। সূত্রঃ ডিবিসি