ডিসিএন বাংলা টেলিভিশন
নিউজ ডেক্স
আজ (১৬ জুলাই) শনিবার দুপুরে উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের কচুবুনিয়া গ্রামের ইউসুফ গাজীর বাড়ি থেকে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। অজগরটির ওজন ১৫ কেজি বলে জানায় বন বিভাগ।
বনবিভাগ জানায়, সুন্দরবনসংলগ্ন ইউসুফ গাজীর বাড়ির মুরগির খোপে একটি বড় অজগর সাপ ঢুকে তিনটি হাঁস ও একটি মুরগি খেয়ে ফেলে। দুপুরে হাঁস-মুরগির অস্বাভাবিক ডাকাডাকি শুনে খোপের মুখ খুলে অজগর সাপটি দেখতে পান বাড়ির মালিক ইউসুফ গাজী। ভয়ে কাউকে কিছু না বলে তাৎক্ষণিকভাবে ভিটিআরটির সদস্যদের (বন্যপ্রাণি সংরক্ষণ টিম) খবর দেয়া হয়। পরে বনবিভাগ সাপটি উদ্ধার করে। পরে বনরক্ষীদের সহায়তায় পুনরায় সুন্দরবনের গহীনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় ট্রাকচাপায় একই পরিবারের ৩ জন নিহত
বনবিভাগের বরইতলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় ও বন্যপ্রাণী দল সাপটিকে উদ্ধার করেছে। যদি আমাদের কাছে খবর না আসতো তবে হয়তোবা সাপটিকে মেরে ফেলা হতো। লোকালয় থেকে উদ্ধার হওয়া অজগরটি লম্বায় প্রায় ১২ ফুট এবং ওজন ১৫ কেজি। অজগরটি সুন্দরবনে গহীনে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, অজগর নির্বিষ একটি সাপ। এই সাপটি নিশাচর ও খুবই অলস প্রকৃতির, প্রয়োজন ছাড়া নড়াচড়াও করে না। এই প্রজাতিটি গাছে একাকী বাস করলেও শুধু প্রজননকালে জোড়া বাধে। সাধারণত মার্চ থেকে জুনের মধ্যে প্রজননকাল। দেশের ম্যানগ্রোভ বন, ঘাসযুক্ত জমি, চট্টগ্রাম ও সিলেটের চিরসবুজ পাহাড়ি বনে এদের দেখা পাওয়া যায়। সাপটি সাধারণত মানুষের ক্ষতি করে না। খাদ্য হিসেবে এরা ইঁদুর, মুরগি, সাপ-কচ্ছপের ডিম, ছোট বন্যপ্রাণী ইত্যাদি খায়। এটি তার আকারের চেয়েও অনেক বড় প্রাণী খুব সহজেই গিলে খেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ভোলার লালমোহনে কিশোরীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার
তিনি আরও জানান, চামড়ার জন্য সাপটি পাচারকারীদের লক্ষবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে আমাদের বনাঞ্চল থেকে এটি দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-২ অনুযায়ী এ বন্যপ্রাণীটি সংরক্ষিত, তাই এটি হত্যা বা এর যে কোনো ক্ষতি করা হবে দণ্ডনীয় অপরাধ।
ডিসিএন বাংলা/জা.নি.