বিয়ের পর আলাদা হয়ে যেতে হবে, দেখা হবে না একে অপরের, এই ভাবনা গ্রাস করার পরই ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেয় দুজনে। একই ওড়নায় দুই বান্ধবী আত্মঘাতী হল। ঝুলন্ত অবস্থায় দেহ উদ্ধার করে পরিবারের লোক। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে সুইসাইড নোটও। জানা যায়, চলতি মাসেই দীপ্তি রায়ের বিয়ে ঠিক হয়। পরিবার থেকে সেই মতো আয়োজন চলছিল জোরকদমে। বিয়েতে কোনও রকম আপত্তিও প্রকাশ করেননি দীপ্তি । কিন্তু হঠাৎই এমন ঘটনা ঘটবে তা কল্পনাতেও আসেনি। এক কথায় হতভম্ব দুই পরিবার।
এলাকাবাসীদের মতে খুব ছোট বেলা থেকেই প্রিয়াঙ্কা রায় ও দীপ্তি রায় ভাল বন্ধু। একই সঙ্গে বেড়ে ওঠা দুইজনের। একই সঙ্গে স্কুল। সব ঠিকই চলছিল। এর মধ্যে এক বান্ধবীর বিয়ে ঠিক করে পরিবার। কিন্তু দুজন যে দুজনের থেকে একেবারেই আলাদা হতে চায় না তা কেউই বুঝে উঠতে পারেনি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, আলাদা হয়ে যেতে হবে দুজনকে, বিচ্ছেদের এই ভাবনা থেকেই এমন ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেয় দুজনে। বাড়ি ফাঁকা থাকায় সেখানেই একই ওড়নায় দুজন দুজনের হাত ধরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় তারা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা, ”SORRY, আমাদের আলাদা করবেন না, একসাথে নিয়ে যাবেন, একসাথে রাখবেন, আমাদের সব কাজ একসাথে করবেন’।
সুইসাইড নোটে একে অন্যকে ছেড়ে থাকার কথাও লিখেছে তারা। পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়ে তারা জানিয়েছেন, মা বাবার স্বপ্নপূরণ করতে পারেনি, কিন্তু দীপ্তি বা প্রিয়াঙ্কা কেউই একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারবে না। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কার মা বলেন, ‘সব সময় দুজনে একসঙ্গে থাকত, ছোট বেলার থেকে একসঙ্গে খাওয়া দাওয়া, পড়াশোনা, ঘোরাফেরা। সকালে কাজে বের হওয়ার সময়ও কিছু বুঝতে পারিনি। বাড়ি ফাঁকা ছিল। ওরা যে এরকম করবে তা বুঝতে পারিনি কখনও।’ পুলিশ সুইসাইড নোট উদ্ধার করে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
ডিসিএন বাংলা/আ.নি.