ঝালকাঠিতে চালককে হত্যা করে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (থ্রি-হুইলার) ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কের শ্রীরামপুর নাম স্থানে সড়কের পাশ থেকে ওই চালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত চালকের নাম আব্দুল সোবাহান খলিফা (৬০)। তিনি জেলার নলছিটি উপজেলার তীমিরকাঠী গ্রামের বাসিন্দা।
ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মঈনুল হক জানান, নিজের অটোরিকশা নিয়ে প্রতিদিনের মতো শুক্রবার বিকেলে বাড়ি থেকে বের হন বৃদ্ধ চালক সোবাহান। কিন্তু রাতে আর তিনি বাড়ি ফেরেননি। তার মোবাইল ফোনটিও গত রাত ৭টা থেকে বন্ধ পান পরিবারের লোকজন। শনিবার সকালে সড়কের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়।
তিনি জানান, শুক্রবার রাতের যে কোনো সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি
ভরা মৌসুম না হলেও হঠাৎ ভোলার মেঘনা- তেঁতুলিয়া নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে।
পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ায় হাসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। আগামী ১০-১২ দিন এভাবে ইলিশ ধরা পড়লে মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে প্রত্যাশা তাদের।
এ বছর ইলিশের মৌসুমে কিছুটা পরিবর্তন হওয়ায় শীতে বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে বলে মনে করছে মৎস্য বিভাগ।
জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত চলে ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময়েই ভোলাসহ উপকূলীয় জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়া বেশি। কখনো কখনো লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ইলিশ ধরেন জেলেরা। এবার বর্ষায় ভরা মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে কিছুটা হতাশা ছিল।
তবে, শীতে ইলিশের ভরা মৌসুম না হলেও এবার দেখা যাচ্ছে উল্টোচিত্র। হঠাৎ করেই গেল ২ দিন ধরে মেঘনা তেঁতুলিয়াসহ সাগরের মোহনায় জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। আরও কিছুদিন এমন অবস্থা থাকলে বর্ষার লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করছেন জেলেরা।
অসময়ের এত ইলিশ ধরা পড়ায় ইলিশের মৌসুমে কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে ভোলা জেলার মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘তুফানে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ আসছে। আগামী মার্চ-এপ্রিলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আশা করছি আমরা।’
চলতি বছর জেলায় ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন। মৌসুমের প্রথম ৭ মাসে লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেক ইলিশ ধরা পড়েছে।
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউ ওয়ার্ডে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে রোগীর মৃত্যুর সম্পর্ক নেই বলে দাবি করছেন হাসপাতাল কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত ওই রোগী মুমূর্ষু অবস্থায়ই ছিলেন। মারা যাওয়া রমনী মোহন দাসের বয়স ৬৫ বছর। তার বাড়ি গৌরনদী উপজেলার সরিকল গ্রামে। তিনি সিসিইউতে ছিলেন। করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) জটিল রোগীদেরই রাখা হয়, যাদের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন।
হাসপাতালের সেবা তত্ত্বাবধায়ক সাংবাদিকদের বলেন, “রাত সাড়ে ৯টার বৈদ্যুতিক বোর্ড থেকে আগুন ধরে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনেও আগুন ধরে যায়। রোগী ও স্বজনরা আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গেই রোগীদের পাশের পোস্ট সিসিইউতে সরিয়ে নেওয়া হয়।” ফায়ার সার্ভিস যাওয়ার আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।
বরিশাল ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, “৯৯৯ থেকে কল করে মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানানো হয়েছিল। পরপরই আগুন নিভে যাওয়ার খবর জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই মেডিকেলে ফায়ার সার্ভিসের কোনো দল পাঠানো হয়নি।”
হাসপাতালের পরিচালক এমএইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই হাসপাতালের কর্মীরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
রোগী মৃত্যুর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “ওই রোগী আগে থেকেই মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত। অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে ওই রোগীর মৃত্যুর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
জেলার গৌরনদী উপজেলার অসহায় অতিদরিদ্র শ্রবন বাকপ্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার টরকী হযরত মল্লিক দূত কুমার পীর সাহেবের মাজার প্রাঙ্গনে বধির ও প্রতিবন্ধী সংঘের আয়োজনে অর্ধশতাধিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে কম্বল, শাড়ী, লুঙ্গি ও বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল-আমিন হাওলাদারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জনকন্ঠের স্টাফ রিপোর্টার খোকন আহম্মেদ হীরা, সংঘের উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি বধির গাজী খায়রুল ইসলাম, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখার সদস্য সচিব তারেক মাহমুদ আলী প্রমুখ।
ঢাকা থেকে বরিশালে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ কুয়াকাটা-২ এর কেবিন থেকে শারমিন আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামী মো. মাসুদকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শারমিন আক্তার ঢাকার কুনিপাড়া এলাকার এনায়েত হোসেনের মেয়ে।
সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) র্যাব সদরদপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম খান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা থেকে বরিশালগামী এমভি কুয়াকাটা-২ লঞ্চের কেবিন থেকে শারমিন আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে নৌপুলিশ। এ ঘটনায় স্বামী মো. মাসুদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিকেলে কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।
ঘটনার দিন ১০ ডিসেম্বর বরিশাল সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসনাত জামান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে আসে কুয়াকাটা-২ লঞ্চ। শুক্রবার সকালে বরিশাল বন্দরে পৌঁছায়। যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর কর্মচারীরা কেবিনগুলো পরিষ্কার শুরু করেন। এসময় লঞ্চের নিচতলার একটি স্টাফ কেবিন তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে তালা ভেঙে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌ-পুলিশকে খবর দিলে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।