
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া এলাকার মধুপুর কাকলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সতীশ চন্দ্র বর্মনের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি উপেক্ষা করে অনুমতি ছাড়াই ভারতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানাগেছে, গত ১৬ এপ্রিল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে তিনি ভারতে গিয়ে গত ২ মে দেশে ফেরেন। তবে বিদেশ গমনের আগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছুটি গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনায় আসে।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মহলের দাবি, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক বিদেশে যেতে চাইলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ও প্রশাসনিক ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক। অথচ এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বিদেশ গমন সরকারি চাকরি আচরণবিধি ও শিক্ষা প্রশাসনের নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, সতিশ স্যারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারত গমন ও বিদ্যালয়ের জমি দখলসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। আমরা অভিভাবকগণ মিলে মহাপরিচালক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এবিষয়ে সহকারী শিক্ষক সতীশ চন্দ্র বর্মন বলেন, বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট অনুমতি নিলেই যথেষ্ট। তিনি আরো বলেন, তিন বিঘা জমি দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান করেছি। এমনি এমনি আসেনি “এর আগেও আমি একাধিকবার এভাবে ভারতে গিয়েছি কোন সমস্যা হয়নি।
এব্যাপারে মধুপুর কাকলী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সুদেব রায় জানান, আমার কাছে ভারতে গিয়ে Whatsapps এর মাধ্যমে ছুটির জন্য একটি আবেদন দিয়েছে। বিদেশ বহিঃগমনে ক্ষেত্রে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের হুকুম ছাড়া আমার অনুমতি দেওয়ার কোন সু্যোগ নেই।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়দ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানায়, ইউএনওর মৌখিক নির্দেশনায় প্রাথমিকভাবে শোকজ করেছি কিন্তু জবাব সন্তোষজনক না হওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিলের জন্য সময় চেয়েছেন।
অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলামের সাথে মুঠোফোন বারবার যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিসার শাহিন আকতার বলেন, “বিদেশ গমনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বিদেশে যেতে পারবেন না। এছাড়াও বিদেশ বহির্গমনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন থাকতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, একজন দায়িত্বশীল শিক্ষক কর্তৃক সরকারি নিয়ম-কানুনকে এভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ডিসিএন বাংলা/আ. নি.
All rights reserved © 2026
Leave a Reply