1. online@dcnbangla.tv : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@dcnbangla.tv : admin :
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৭ পূর্বাহ্ন

গণজোয়ারে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন: ঠাকুরগাঁওয়ে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২৭ বার পঠিত

আব্দুল কাদের জিলানী, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও সফরে এসে সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও উচ্ছ্বাসে সিক্ত হয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে অনুষ্ঠিত নাগরিক গণসংবর্ধনা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম থেকে হাজারো মানুষ প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে ছুটে আসেন।

রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম, সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠ এবং আশপাশের সড়কে মানুষের ঢল নামে। নারী-পুরুষ, তরুণ-যুবক, প্রবীণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পুরো শহর উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।

দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁও পৌঁছালে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম থেকে সার্কিট হাউসে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সার্কিট হাউসের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাষ্ট্রপতি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণসংবর্ধনায় রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। উপস্থিত মানুষের করতালি, স্লোগান ও ভালোবাসায় বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ঠাকুরগাঁও দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার ছিল। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি এই জেলার মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করতে। মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর—ঠাকুরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।”

গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। আমরা আর কোনো রক্তপাত চাই না। একটি শান্তিপূর্ণ, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”

তরুণদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, “শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জন করো, উদ্যোক্তা হও এবং নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরি করো। মাদক, দুর্নীতি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে তরুণদেরই সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াতে হবে।”

রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে পুরো ঠাকুরগাঁও শহরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সফর নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি।

দুই দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধনের কর্মসূচি রয়েছে। কর্মসূচি শেষে রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবনে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই ঐতিহাসিক সফর জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ডিসিএন বাংলা টিভিঃ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost