
নিজস্ব প্রতিবেদন:
ঝালকাঠি থেকে দিবস তালুকদার:
ঝালকাঠির কেওড়া ইউনিয়নের “সারেংগল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি শেখ মজিবরের বিরুদ্ধে সমিতির অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের পক্ষে সমিতির ৮০ জনেরও বেশি সদস্য স্বাক্ষর করে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে ৪৯ ধারায় তদন্তের আবেদন করেছেন।
গনমাধ্যমের হাতে আসা তথ্য বলছে, সমিতির সভাপতি শেখ মজিবর এলাকায় জ্বীনের বাদশা নামেও বেশ পরিচিত। সমবায় সমিতির কার্যালয়ে প্রতি শুক্রবার ওঝা হয়ে তাবিজ বানিজ্য করেন। তার বিরুদ্ধে সমিতির প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন সাধারণ সদস্যরা।
চলতি বছরের শুরুর দিকে সমিতির সার্বিক কার্যক্রম ৪৯ ধারায় তদন্তের দাবিতে ঝালকাঠি জেলা সমবায় কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করা হয়। এতে সকল সদস্যের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সমিতির সদস্য নম্বর ৪৯২ এর সদস্য মো. ইলিয়াস হোসেন।
এরপর গত ১০ মে সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন মৃধা স্বাক্ষরিত আরেকটি আবেদন জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। ওই আবেদনে সদস্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, সমিতির কার্যালয়, মালামাল ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উদ্ধার এবং নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানানো হয়।
সভাপতি শেখ মজিবরের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে সারেংগল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির কার্যালয়টি সভাপতি মজিবরের বাড়ির ভেতরে অবস্থিত এবং দীর্ঘদিন ধরে সেটি প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। শুধু শুত্রবার সেখানে জ্বীন চালান সহ তাবিজ কবজ বিক্রি করতে বসেন অভিযুক্ত সভাপতি শেখ মজিবর।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বলে জানান। তিন দিন ঘোরানোর পর তিনি ফোনে বলেন, “এই অভিযোগকে আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি না, বিষয়টি আমার কাছে কিছুই না।”
সারেংগল বাজারে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমিতির সদস্যদের মধ্যে এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সদস্য আবু সুফিয়ান মিন্টু, খাদেমুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বাবুল, শাহীন মৃধা ও ইলিয়াস হোসেনসহ একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, সভাপতি শেখ মজিবর দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং আর্থিক হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখেননি।
অভিযোগকারী সদস্যরা আরো জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিধি অনুযায়ী দায়িত্বে না থেকে তিনি কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহযোগিতায় কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ বা নির্বাচন ছাড়াই কাগজে-কলমে তার স্ত্রী মোসা. নাছিমা বেগমকে সভাপতি দেখিয়ে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
তাদের দাবি, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমিতির নামে লিজ নেওয়া রাস্তার পাশের কিছু আমড়া গাছের ফল বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কয়েকজন সদস্য নিজেদের দাবি করে আমড়া বিক্রি করলে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায় এবং পরে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়।
এ ঘটনায় নিজের অবস্থান শক্ত করতে শেখ মজিবর সমিতির সদস্য সচিব হিসেবে শাহীন মৃধা এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে হাসান মাহামুদ রিন্টুকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তাদেরকে কোনো কাজ এবং অফিস নথি বুঝিযে দেয়নি।
গড়িমসি করতে করতে কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তিনি কোনো আর্থিক হিসাব উপস্থাপন না করে নানা অজুহাতে কমিটির কার্যক্রম শেষ করেন বলে অভিযোগ করেন সদস্যরা।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পত্র হাতে পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
নতুন এডহক কমিটি অনুমোদন দিয়ে সমিতির কাজের গতি ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলেও ডিসিএন বাংলাকে জানিয়েছেন জেলা সমাবায় কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম।
ডিসিএন বাংলা টিভি: